চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা প্রতিষ্ঠানের পদচারণা পুনরায় শুরু
চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা প্রতিষ্ঠানের পদচারণা পুনরায় শুরু

চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা প্রতিষ্ঠানসমূহের আবার পদচারণা শুরু হয়েছে। চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বহু বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা প্রতিষ্ঠানসমূহ অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগের ব্যাপারে বিগত সময়ে ব্যাপক যোগাযোগ করে আসছিল। কোন কোন ক্ষেত্রে তারা যৌথভাবে চট্টগ্রামের কয়েকটি প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতেও দেখা যায়। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে বড় ধরনের বিনিয়োগ বা অবকাঠামো নির্মাণে তাদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

যদিও বিগত সরকারের প্রথমদিকে চীনের পক্ষ থেকে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। তারা কক্সবাজার এলাকায় ইওআই বা আগ্রহ প্রকাশ ও সমীক্ষা চালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে সরকার থেকে সায় পায়নি। চীনের পক্ষ থেকে ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্পেও বিনিয়োগের আগ্রহ ও প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে জানা যায়। কিন্তু সেটিও বেশি দূর এগোয়নি। যদিও চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনালের তিনটি টার্মিনালের মধ্যে একটি দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং একটি সিংগাপুরের পোর্ট সিংগাপুর অথরিটি (পিএসএ) পাচ্ছে বলে আলোচনা চলছে। অবশ্য অপর মালটিপারপাস টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দর তথা সরকার নিজস্ব উদ্যোগে করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চট্টগ্রাম বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে জানায়, চীনা প্রতিষ্ঠানসমূহ আরো ছোট-বড় কয়েকটি ক্ষেত্রে বন্দরের সঙ্গে যোগ করেও তেমন কোনো সাড়া না পেয়ে এক প্রকার হল ছেড়ে দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন চীনা কোম্পানির প্রতিনিধিদের আবার পদচারণা শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। গতকাল বুধবারও চায়না হারবার অ্যান্ড ড্রেজিং কোম্পানির কয়েক জন প্রতিনিধি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরে ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাছাড়া গত মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে চট্টগ্রামে আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চীনা অর্থনৈতিক এবং শিল্প অঞ্চলের প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে চায়না প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেবে। সরকার ১ হাজার কোটিরও বেশি প্রদান করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ও ১ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে বিগত সরকারের সময় এর নির্মাণকাজ শুরু হলেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। যদিও ৭৮৩ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন প্রকল্পে চীনের লেদার, সিরামিক, ওষুধ, রাসায়নিক, পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন ধরনের কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় এক দশক পূর্বে চীনা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরকালে এই অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের ব্যাপারে আলোচনা হয়। জানা যায়, চীনের বিখ্যাত বন্দর পরিচালনা প্রতিষ্ঠান চায়না মার্চেন্ট পোর্ট হোল্ডিংস-এর অধীনে কলম্বোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকেও চট্টগ্রাম বন্দরসহ বাংলাদেশে বন্দর নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, চীনা প্রতিষ্ঠানসমূহ নতুন সরকারের সময় আবার তাদের বিনিয়োগ ও অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে।