জাপানে ডানপন্থি চিন্তার বিস্তার ও সামরিকতাবাদের পুনরুত্থানে চীনের তীব্র উদ্বেগ
জাপানে ডানপন্থি চিন্তার বিস্তারে চীনের উদ্বেগ

জাপানে ডানপন্থি চিন্তাধারার বিস্তার ও সামরিকতাবাদের পুনরুত্থানে চীনের তীব্র উদ্বেগ

জাপানে ক্রমবর্ধমান ডানপন্থি চিন্তাধারা ও ‘নব্য সামরিকতাবাদের’ পুনরুত্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। টোকিওতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসে জাপানের এক সক্রিয় সামরিক কর্মকর্তার জোরপূর্বক প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই উদ্বেগের পাশাপাশি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। বৃহস্পতিবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চিয়াং বিন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

সামরিক কর্মকর্তার দূতাবাস অনুপ্রবেশ ও হুমকির ঘটনা

মঙ্গলবার টোকিওতে চীনা দূতাবাসের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন কোদাই মুরাতা নামের এক ব্যক্তি। তিনি জাপানের স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর একজন সক্রিয় কর্মকর্তা। সেখানে প্রবেশ করে তিনি চীনা কূটনীতিকদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশ অভিযুক্ত মুরাতাকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে। চিয়াং বিন এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাপান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জাপানের রাজনৈতিক প্রবণতা ও সামরিক সম্প্রসারণ

চিয়াং বিন বলেন, জাপানি সেনাবাহিনীর ভেতরে উগ্র ডানপন্থি চিন্তার বিস্তার ঘটছে, যা একটি উদ্বেগজনক সংকেত। জাপানের দ্রুত ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়া রাজনৈতিক প্রবণতা এবং আত্মরক্ষা বাহিনীর ওপর দুর্বল তদারকি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের মতে, জাপান বর্তমানে তাদের তিনটি জাতীয় নিরাপত্তা নথি সংশোধন করছে, আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র ধারণ নিয়ে আলোচনা করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গত সোমবারই জাপান তাদের নৌ আত্মরক্ষা বাহিনীর কাঠামো পুনর্বিন্যাস, মহাকাশ ইউনিট সম্প্রসারণ এবং নতুন গোয়েন্দা বাহিনী গঠনের মাধ্যমে বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তন এনেছে। এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম দফায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও গ্রহণ করেছে দেশটি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সম্প্রতি বলেছিলেন যে চীন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতার কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান বর্তমানে সবচেয়ে জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি।

চীনের জবাব ও ঐতিহাসিক সতর্কতা

এর জবাবে চীনা মুখপাত্র বলেন, বাইরের হুমকির কথা বলে জাপান আসলে তাদের অন্য কোনও উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, অতীতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আগ্রাসন চালিয়ে এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টির ইতিহাস থেকে জাপান পুরোপুরি শিক্ষা নেয়নি। চিয়াং বিন আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষের উচিত জাপানে এই নব্য সামরিকতাবাদের বিস্তারকে দৃঢ়ভাবে দমন করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

এই ঘটনা ও চীনের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। জাপানের সামরিক ও রাজনৈতিক নীতির দিকে ক্রমবর্ধমান মনোযোগ দিচ্ছে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকরা। চীনের উদ্বেগ প্রকাশ ও হুঁশিয়ারি এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বিতর্ককে আরও জোরদার করেছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।