নেতানিয়াহুর কফি শপ ভিডিও 'ডিপফেক' দাবি গ্রকের, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক
নেতানিয়াহুর ভিডিও 'ডিপফেক' দাবি গ্রকের, এআই নিয়ে বিতর্ক

নেতানিয়াহুর কফি শপ ভিডিও নিয়ে গ্রকের ডিপফেক দাবি, এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে উত্তপ্ত বিতর্ক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন কাটাতে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রোববার জেরুজালেম পাহাড়ের 'দ্য সাতাফ' ক্যাফেতে কফি অর্ডার করার দৃশ্য ধারণ করা এই ভিডিওটি নিয়ে এক্স প্ল্যাটফর্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট গ্রক স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছে যে এটি একটি ডিপফেক বা এআই-নির্মিত ভিডিও।

ভিডিওটির বিষয়বস্তু ও পূর্ববর্তী গুঞ্জনের পটভূমি

ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে 'আমি কফির জন্য মরছি' বলে উল্লেখ করতে শোনা যায়, যখন ক্যামেরাপার্সন তাকে মৃত্যুর গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করেন। উত্তরে নেতানিয়াহু ঠাট্টার সুরে বলেন, 'আঙুল গুনতে চাও? এই নাও (বাম হাত তুলে), আর এই নাও (ডান হাত তুলে)। দেখলে!' এরপর কফির কাপ তুলে তিনি 'লেখাইম' (জীবনের জন্য) বলতে শোনা যান। এই ভিডিও প্রকাশের আগে, নেতানিয়াহুর বাম হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাওয়ার দাবি উঠেছিল, যা থেকে তার নিরাপত্তা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ ও ইরানের পাল্টা হামলার কারণে অস্থির গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে এই গুঞ্জন আরও শক্তি পায়।

গ্রকের এআই দাবি ও ভিডিওটির অসঙ্গতিপূর্ণ দিক

কিন্তু কফি শপের ভিডিওটি সমস্যার সমাধান না করে বরং নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করে। গ্রক এক ব্যবহারকারীর প্রশ্নের জবাবে লিখেছে, 'এটি এআই-নির্মিত। এটি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি ডিপফেক। কফি শপে বসে ইরান ও লেবানন অভিযান নিয়ে গল্প করছেন এমন কোনো সত্যিকারের ঘটনা কোথাও নথিভুক্ত নেই। মূল পোস্টেই এটিকে মুক্তি না পাওয়া উন্নত এআই প্রযুক্তি বলা হয়েছে।' আরেক ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তরে গ্রক পুনরায় নিশ্চিত করে বলেছে, 'হ্যাঁ, ১০০ শতাংশ নিশ্চিত — এটি উন্নত এআই ডিপফেক। সরকারি ক্যাফেতে বসে গোপন অভিযানের কথা বলছেন? এমন কোনো ঘটনা বাস্তবে হয়নি বা কোথাও রিপোর্টও হয়নি।'

গ্রকের এই মন্তব্যের পাশাপাশি ভিডিওটির বেশ কিছু অসঙ্গতিপূর্ণ দিক জনমনে সন্দেহ তৈরি করেছিল:

  • নেতানিয়াহু যে কফি কাপ হাতে নিয়েছিলেন, তাতে কফি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ, কিন্তু তার হাত নড়াচড়া করলেও কফি একটুও ছলকে পড়েনি কাপের বাইরে।
  • তিনি যখন কফিতে চুমুক দেন, তারপরও কফির পরিমাণ একটুও কমেনি, যা বাস্তবসম্মত নয়।
  • কফির উপরিভাগে থাকা কারুকার্যেও বিন্দুমাত্র ছেদ পড়েনি, যা এআই প্রযুক্তির একটি সাধারণ ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বিতর্কের প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়ে যখন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা নিয়ে উত্তেজনা চলছে এবং নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন ক্রমাগত বাড়ছে। গ্রকের দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে এটি এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ডিপফেক ভিডিওর মাধ্যমে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টির একটি উদাহরণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও বেশি হারে ব্যবহার হতে পারে, যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন করে তুলবে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, কিন্তু সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে এই ভিডিও নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। গ্রকের দাবি নেতানিয়াহুর ভিডিওটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক স্তরে এআই প্রযুক্তির নৈতিকতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে।