ট্রাম্পের বর্ণবাদী ভিডিও পোস্টে ক্ষুব্ধ বারাক ওবামা, হারিয়ে যাওয়া শিষ্টাচারের কথা বললেন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি বর্ণবাদী ভিডিওর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ওবামা সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে বলেন, একসময় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যে লজ্জা ও শিষ্টাচার বোধ ছিল, তা এখন সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে গেছে। এই মন্তব্য ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত একটি আপত্তিকর ভিডিওর প্রেক্ষিতে এসেছে, যেখানে ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামাকে বানরের রূপে দেখানো হয়েছিল।
বিতর্কিত ভিডিও ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার পর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের নেতাদের কাছ থেকেই ট্রাম্প ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হন। শুরুতে হোয়াইট হাউস ভিডিওটির পক্ষে সাফাই গেয়ে সমালোচনাকে ভুয়া ক্ষোভ বলে অভিহিত করলেও, পরবর্তীতে একজন কর্মীকে দায়ী করে ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়। এই ঘটনাটি মার্কিন রাজনীতিতে একটি বড় বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ওবামার পডকাস্টে সরব প্রতিক্রিয়া
বারাক ওবামা লিবারেল পডকাস্টার ব্রায়ান টাইলার কোহেনের সঙ্গে একটি পডকাস্টে কথা বলার সময় এই বিষয়ে তার মনোভাব প্রকাশ করেন। শনিবার প্রকাশিত ৪৭ মিনিটের এই পডকাস্টের শুরুতে কোহেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে বললে, ওবামা বলেন, "এটি এমন এক নিষ্ঠুরতার স্তরে নেমে গেছে, যা আগে দেখা যায়নি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আমেরিকার অধিকাংশ মানুষ এ ধরনের আচরণকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক মনে করেন।
পডকাস্টে কোহেন ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্টটির কথা উল্লেখ করে বলেন, "কয়েক দিন আগে ট্রাম্প আপনার মুখ একটি বানরের শরীরে বসিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছেন।" জবাবে ওবামা বলেছেন, "এসব বিষয় মনোযোগ আকর্ষণ করে, কিন্তু এগুলো মূল বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।" তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনে এক ধরনের ভাঁড়ামি চলছে বলে মন্তব্য করেন।
হারিয়ে যাওয়া শিষ্টাচার ও লজ্জাবোধ
সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, "বাস্তবতা হলো, যারা এক সময় মনে করতেন যে পদের প্রতি সম্মান, শিষ্টাচার এবং সৌজন্যবোধ থাকা প্রয়োজন, তাদের মধ্যে এখন আর এসব নিয়ে কোনো লজ্জা কাজ করে বলে মনে হয় না। সেই বোধটা হারিয়ে গেছে।" যদিও ওবামা সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার মন্তব্যগুলো স্পষ্টভাবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করছে।
এই ঘটনাটি মার্কিন রাজনীতিতে নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূচনা করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ওবামার এই সমালোচনা ভবিষ্যত রাজনৈতিক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
