টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানি শহরগুলোতে মার্কিন বোমাবর্ষণের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক পাল্টা আঘাত হেনেছে তেহরান। বৃহস্পতিবার কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই উত্তেজনার রেশ ধরে জর্ডানের আকাশসীমাতেও সাইরেন বেজে ওঠে এবং দেশটি ইরানের আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে হামলার বিবরণ
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভোররাত থেকে তারা নিজেদের আকাশসীমায় তিনটি ব্যালিস্টিক মিসাইল, একটি ক্রুজ মিসাইল এবং ১০টি ড্রোন শনাক্ত করেছে। এগুলো সফলভাবে প্রতিহত করা হলেও এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন আহত হয়েছেন। একইভাবে রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাহরাইন ও কাতারেও হামলা চালানো হয়। কাতারে অবস্থানরত মানুষের মোবাইল ফোনে আকস্মিক সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়, যদিও দ্রুতই তা হুমকি মুক্ত বলে আরেকটি বার্তা দেওয়া হয়। কয়েক মাসের মধ্যে কাতারে এটিই প্রথম এমন সতর্কবার্তা। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কুয়েত ও বাহরাইনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ইরানের হামলার যৌক্তিকতা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া
উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় তারা ওয়াশিংটনকে সহায়তা করছে, এই অজুহাতে ইরান তাদের ওপর হামলার যৌক্তিকতা দেখাচ্ছে। তবে কাতারসহ অন্য দেশগুলো এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর কোনও হামলা চালানো হয়নি।
মার্কিন হামলায় ইরানে হতাহত ও হরমুজ প্রণালির অবস্থা
এদিকে গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন ইরানের বুশেহর, চাবাহার, বন্দর আব্বাস ও সিরিক শহরে মার্কিন হামলায় ১৪ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা ঠেকাতে তারা গত দুই দিনে উপকূলীয় অঞ্চলের ১৭০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু, ড্রোন ও মিসাইল মজুত কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। যা গত জুনের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মার্কিন এই হঠকারিতার কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০ শতাংশ কমে গেছে এবং এর জন্য ওয়াশিংটনই দায়ী থাকবে।



