চীন ২০৩০ সালের মধ্যে একটি পরিচ্ছন্ন, নিম্ন-কার্বন, নিরাপদ ও দক্ষ নতুন জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সম্প্রতি জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন এবং জাতীয় জ্বালানি প্রশাসন যৌথভাবে এই পরিকল্পনা প্রকাশ করে।
১৫তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অংশ
পরিকল্পনাটি ২০২৬-২০৩০ সময়কালের ১৫তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আওতাভুক্ত। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারকরণ, সবুজ রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নের মতো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উৎপাদন ক্ষমতা ও জ্বালানি মিশ্রণের লক্ষ্য
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের মোট জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা ৫.৮ বিলিয়ন টন স্ট্যান্ডার্ড কয়লা সমতুল্যে পৌঁছাবে। একই সময়ে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পরিপূরক সহায়তা, নিরাপত্তা ও সহনশীলতা সক্ষমতা ব্যাপকভাবে উন্নত হবে।
পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, কয়লা ও তেলের ব্যবহার শীর্ষে পৌঁছাবে এবং অ-জীবাশ্ম জ্বালানি মোট জ্বালানি ব্যবহারের ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে। বায়ু ও সৌর শক্তি দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি হবে এবং স্থাপিত ক্ষমতার মূল ভিত্তি হয়ে উঠবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা
২০৩০ সালের মধ্যে অ-জীবাশ্ম জ্বালানি মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫০ শতাংশ সরবরাহ করবে এবং বিদ্যুতের প্রধান উৎস হয়ে উঠবে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চীন একটি শক্তিশালী ও সহনশীল, সবুজ ও নিম্ন-কার্বন, সমন্বিত, বুদ্ধিমান ও দক্ষ নতুন জ্বালানি পরিকাঠামো ব্যবস্থা নির্মাণ ত্বরান্বিত করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে একটি নতুন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মূলত প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও বাজার ব্যবস্থা
পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো জ্বালানি শিল্প চেইনের মূল প্রযুক্তি ও সরঞ্জামগুলোকে মূলত স্বনির্ভর ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য করে তোলা এবং চীনকে বৈশ্বিক জ্বালানি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের অগ্রভাগে অবস্থান করানো।
এছাড়াও নতুন জ্বালানি ব্যবস্থার উপযোগী বাজার ও মূল্য ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে, যার মধ্যে একটি একীভূত জাতীয় বিদ্যুৎ বাজার ব্যবস্থা মূলত প্রতিষ্ঠিত হবে।
জীবাশ্ম জ্বালানি অপ্টিমাইজেশন ও আমদানি বৈচিত্র্যকরণ
পরিকল্পনায় জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর অপ্টিমাইজেশন, জ্বালানি উন্নয়ন ও জ্বালানি-নির্ভর শিল্পের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় এবং বৈচিত্র্যময় জ্বালানি আমদানি চ্যানেল সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দ্বৈত কার্বন লক্ষ্য
চীন ২০৩০ সালের আগে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন শীর্ষে পৌঁছানো এবং ২০৬০ সালের আগে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের দ্বৈত কার্বন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম ও দ্রুততম বর্ধনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যা তার সবুজ ও নিম্ন-কার্বন রূপান্তরের জন্য শক্তিশালী সহায়তা প্রদান করছে।



