বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে গঠিত ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের পুনঃনামকরণের জন্য দ্বিতীয় দফা গণশুনানিতে জনগণের ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত স্থানীয় রহবল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই ইউনিয়নের নাম ‘রহবল’ রাখার পক্ষে মত দেন।
গণশুনানির বিশদ বিবরণ
দিগন্ত ইউনিয়নের প্রশাসক ও নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত কমিটির আহবায়ক আল মামুন জানান, প্রথম দফা শুনানি গত মঙ্গলবার মোকামতলার ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভরিয়া, পাকুরতলা ও ভরিয়া পাকুরতলা নাম প্রস্তাবিত হয়। তবে শুনানি পর্যাপ্ত না হওয়ায় দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে ৩ হাজার ৬০০ জন অংশ নেন, যেখানে রহবল, ভরিয়া ও পাকুরতলা নাম প্রস্তাবিত হয়; তবে রহবল নামের পক্ষে সর্বোচ্চ সমর্থন আসে।
গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভৌগোলিক পরিচিতি ও জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে নতুন ইউনিয়নের নাম ‘রহবল’ রাখা উচিত। স্থানীয়দের ব্যাপক সমর্থন শুনানিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। আল মামুন আগামী রোববার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ রিপোর্ট জমা দেবেন।
অন্যান্য ইউনিয়নের গণশুনানির ফলাফল
মীরবাড়ী ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের গণশুনানি মঙ্গলবার বেতগাড়ী মীরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৪৫৪ জন অংশ নিয়ে বেতগাড়ি, আলিয়ারহাট, রামকান্দি, মালোগাড়ি, গুপিনাথপুর, হরিপুর ও গোরনা নাম প্রস্তাব করেন। প্রশাসক আবদুল হান্নান বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।
সীমান্ত ইউনিয়নের গণশুনানি মঙ্গলবার মোকামতলার সৈয়দপুরে জগন্নাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। ৮২০ জন অংশ নিয়ে অভিরামপুর, জগন্নাথপুর, আমঝুপি, খেরুয়াপাড়া, হাজীর বাজার ও মানকৈর নাম প্রস্তাব করেন। প্রশাসক ডা. মাহাবুব হাসান চৌধুরী বুধবার রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।
পটভূমি ও সরকারি নির্দেশনা
সম্প্রতি বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত তিনটি ইউনিয়নের নাম স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ি এবং তার দুই ছেলের নাম অনুসারে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের জন্য আলাদা কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান তিন ইউনিয়নের প্রশাসককে গণশুনানি কমিটির আহ্বায়ক করেন। মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার চারটি স্থানে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মতামত দেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, তিনটি ইউনিয়নের জনগণ স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতির গুরুত্ব দিয়ে নামকরণ দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত শুধু সীমান্ত ইউনিয়নের রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন। দিগন্ত ও মীরবাড়ী ইউনিয়নের ফলাফল পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক সীমান্ত, দিগন্ত ও মীরবাড়ী ইউনিয়নের নতুন নামকরণের গেজেট প্রকাশ করবেন।



