ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বৃহস্পতিবার তার জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হয়েছে। কালো পোশাক ও লাল পতাকা হাতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানায়।
শোকের নগরী মাশহাদ
মাশহাদের রাস্তায় মাইলের পর মাইল শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। কারও হাতে ছিল প্রয়াত নেতার ছবি, কেউ কাঁদছিলেন, কেউ মাতম করছিলেন। কফিনবাহী গাড়ি ধীরগতিতে লাখো মানুষের মিছিল চিরে এগিয়ে যায়। পুরো মাশহাদ যেন শোকের নগরীতে পরিণত হয়।
ইরাকেও শ্রদ্ধা
এর আগে তেহরান ও কওম ছাড়াও ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় কফিন নেওয়া হয়। উভয় দেশেই লাখো মানুষ সড়কে নেমে খামেনিকে শ্রদ্ধা জানান। ধারণা করা হয়, পুরো আনুষ্ঠানিকতায় কয়েক কোটি মানুষ অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় নিহত
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার পরিবারের চার সদস্যসহ নিহত হন। আলজাজিরা জানায়, মাশহাদের ইমাম রেজার দরগায় তাদের দাফন করা হয়েছে। এর আগে ওই স্থানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে দাফন করা হয়েছিল।
অনুপস্থিত ছেলে মোজতবা
শ্রদ্ধা জানানোর পুরো প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তবে তার আরও তিন ছেলে জানাজায় অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার সময় মোজতবা আহত হয়েছিলেন। ইরান সরকার জানায়, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে আড়ালে রাখা হয়েছে।
প্রতিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাশহাদের রাজপথে লাখো মানুষের ঢল নামে। অপেক্ষারত ক্ষুব্ধ জনতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। নারীদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে।
যুদ্ধবিমান এসকর্ট
সর্বোচ্চ নেতার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, ইরাক থেকে খামেনির কফিন বহনকারী বিমানটি যখন মাশহাদে পৌঁছায়, তখন অন্তত একটি যুদ্ধবিমান সেটিকে এসকর্ট করে নিয়ে আসে।
পরিবারের সদস্যদের দাফন
মাশহাদে খামেনির পাশাপাশি তার পরিবারের নিহত সদস্যদের কফিনও ছিল। এর মধ্যে তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপাইগানির কফিনও রয়েছে। এছাড়া আলী খামেনির জামাতা, এক মেয়ে ও ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জহরা হাদ্দাদ আদেলকেও পাশাপাশি দাফন করা হবে।
বিশ্বের ৭০ দেশের প্রতিনিধি
আনুষ্ঠানিকতায় বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ১০১ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ হোসেইন নুরি হামেদানি।
নিজ শহরে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা
এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরানের চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ মোহাম্মদি গোলপাইগানি জানান, খামেনি ব্যক্তিগতভাবে তার নিজ শহরে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার পাশেই পরিবারের অন্য সদস্যদের সমাহিত করা হবে।
১৯৭৯ সালের অভ্যুত্থানের অংশীদার
১৯৭৯ সালে ইরানে রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীদার ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই অভ্যুত্থানে পেহলভি রাজবংশের পতন ঘটে। পরে খামেনি গড়ে তোলেন ইরানের সামরিক ও আধা-সামরিক কাঠামো।



