ছয় বছর পর চীন-উত্তর কোরিয়া যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু, নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন
ছয় বছর পর চীন-উত্তর কোরিয়া যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালু

ছয় বছর বিরতির পর চীন-উত্তর কোরিয়া যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু

ছয় বছর বিরতির পর চীন ও উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করেছে। বৃহস্পতিবার থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে, যা কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ সালে স্থগিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় চালু হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে যাতায়াত ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

ট্রেন রুট ও পরিষেবার বিস্তারিত

নতুন ব্যবস্থায় উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং থেকে চীনের বেইজিং এবং চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের সীমান্ত শহর তানতোং পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে। চায়না স্টেট রেলওয়ে গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, তানতোং-পিয়ংইয়ং রুটে প্রতিদিন দুই দিকেই ট্রেন চলবে, যা যাত্রীদের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করছে। অন্যদিকে, বেইজিং-পিয়ংইয়ং রুটে সোমবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শনিবার দ্বিমুখী পরিষেবা চালু থাকবে, যা সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলিতে যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত বিকল্প প্রদান করছে।

স্থানীয়দের জন্য সুবিধা ও প্রভাব

স্থানীয়রা জানান, ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ায় এখন তাদের আর উত্তর কোরিয়ায় যেতে প্রাদেশিক রাজধানী শেনিয়াংয়ের তাওসিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেতে হবে না, যা সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করছে। এই পরিবর্তন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য যাতায়াতের সুযোগ সহজতর করেছে এবং পর্যটন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি আনতে পারে। বিশেষ করে, তানতোং শহরের মতো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার ও যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

মহামারির প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ সালে ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল, যা দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে বাধা সৃষ্টি করেছিল। এখন পুনরায় চালু হওয়ায় এটি কেবল যাত্রীবাহী পরিষেবাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে ত্বরান্বিত করতে পারে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে, এই পরিষেবা আরও সম্প্রসারিত হয়ে অন্যান্য রুট ও ফ্রিকোয়েন্সি অন্তর্ভুক্ত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।