ইরানে নতুন সেমিস্টারে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, নিহতদের স্মরণে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়
ইরানের রাজধানী তেহরানের আলজাহরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন সেমিস্টার শুরুতেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে স্লোগান দিচ্ছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সরকারের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে, তবে তাঁরা সীমা অতিক্রম করতে পারবেন না। পবিত্র বিষয়সমূহ এবং জাতীয় পতাকা—এই সীমারেখার দুটি উদাহরণ। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ থাকলেও আমাদের অবশ্যই এই সীমারেখা রক্ষা করতে হবে এবং তা অতিক্রম বা বিচ্যুত হওয়া যাবে না।'
মোহাজেরানি আরও উল্লেখ করেন যে ইরানের শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে ক্ষত রয়েছে এবং তাঁরা এমন কিছু দৃশ্য দেখেছেন, যা তাঁদের বিচলিত ও ক্রুদ্ধ করতে পারে। তিনি এই ক্ষোভকে বোধগম্য বলে মন্তব্য করেন।
বিক্ষোভের পটভূমি ও নিহতের সংখ্যা
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন সেমিস্টার শুরু হয়েছে। সেমিস্টার শুরুর দিন থেকেই সরকারপন্থী ও সরকারবিরোধী সমাবেশ শুরু হয়। এসব সমাবেশে গত জানুয়ারিতে হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভের স্লোগানগুলো আবারও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জানুয়ারির ওই বিক্ষোভ একপর্যায়ে চরম আকার ধারণ করেছিল এবং হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা কবলিত দেশটিতে অর্থনৈতিক দুর্দশাকে কেন্দ্র করে গত ডিসেম্বরে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি তা দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) ৭ হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য নথিবদ্ধ করেছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। ইরানি কর্মকর্তারা ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদের দাবি, এই সহিংসতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানিতে সংঘটিত 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' দায়ী।
তদন্ত ও অন্যান্য ঘটনা
মোহাজেরানি গতকাল জানান, একটি তথ্যানুসন্ধানী দল বিক্ষোভের কারণ নিয়ে তদন্ত করছে এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। এদিকে, ইরানের বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার গতকাল মধ্যাঞ্চলীয় ইস্পাহান প্রদেশের একটি ফলের বাজারে বিধ্বস্ত হয়ে চারজন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, এই ঘটনায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাইলট, কো-পাইলট ও দুই ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার উপর নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
