যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ সামরিক অভিযানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) স্থানীয় সময় রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
ট্রাম্পের দাবি: নিখুঁত ও জটিল মিশন
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমার নির্দেশনায় আমেরিকার সাহসী সেনা ও নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় সন্ত্রাসীকে নির্মূল করতে একটি নিখুঁত, সুপরিকল্পিত ও অত্যন্ত জটিল অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, আল-মিনুকি আফ্রিকায় লুকিয়ে থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল, কিন্তু তার সব গতিবিধি মার্কিন গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের পর্যবেক্ষণে ছিল। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের মাধ্যমে আইএসের বৈশ্বিক কার্যক্রম বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। তিনি সফল অভিযানের জন্য নাইজেরিয়া সরকারকেও ধন্যবাদ জানান।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের নিশ্চিতকরণ
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু যৌথ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লেক চাদ অববাহিকায় আল-মিনুকির গোপন আস্তানায় বিমান ও স্থল অভিযানে হামলা চালানো হয়। সেখানে তার বেশ কয়েকজন সহযোগীসহ তিনি নিহত হন।
কে ছিলেন আল-মিনুকি?
আবু-বিলাল আল-মিনুকি (আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মাইনুকি নামেও পরিচিত) ছিলেন একজন নাইজেরীয় নাগরিক। ১৯৮২ সালে নাইজেরিয়ার বোর্নো প্রদেশে জন্মগ্রহণ করা এই জঙ্গি নেতা দীর্ঘদিন আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে আইএসের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
কাউন্টার এক্সট্রিমিজম প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি)-এর প্রধান নিহত হওয়ার পর তিনি ওই অঞ্চলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে লিবিয়ায় আইএসের সক্রিয় সময়েও তিনি যুদ্ধ করেছেন বলে জানা যায়।
আন্তর্জাতিকভাবে ‘সন্ত্রাসী’ তালিকাভুক্ত
আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কে অর্থায়ন ও কৌশলগত নেতৃত্বে ভূমিকার কারণে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তাকে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
আফ্রিকার সাহেলে আইএসের বিস্তার
২০১৭ সালে সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের তথাকথিত খেলাফতের পতনের পর আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল তাদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়। নাইজেরিয়ার সরকারি বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে আইএস-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বোকো হারামের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও যৌথ অভিযান
২০২৫ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা আরও জোরদার হয়। ওই সময় ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছিল, নাইজেরিয়া উগ্রপন্থী গোষ্ঠী দমনে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এর ধারাবাহিকতায় গত বছর বড়দিনের দিন নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আইএস-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে যৌথ বিমান হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসন নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও ড্রোন-ইন্টেলিজেন্স সহায়তা দিতে কয়েকশ সেনা মোতায়েন করে।



