থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে একটি মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে পাবলিক বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত এবং আরও ২৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে ব্যাংককের একটি বিমানবন্দর রেল লিঙ্ক স্টেশনের কাছে অশোক-দিন ডায়েং রোডের একটি ব্যস্ত রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পরপরই বাস এবং আশেপাশে থাকা কয়েকটি যানবাহনে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। থাই গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও এপির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ব্যাংকক থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি টনি চেং জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। যাত্রীবাহী বাসটি রেললাইন পার হওয়ার সময় হঠাৎ স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা ব্যারিয়ার নেমে আসে, যার ফলে বাসটি লাইনের ওপরই আটকা পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তেই দ্রুতগতির মালবাহী ট্রেনটি এসে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং বেশ কিছু দূর হিঁচড়ে নিয়ে যায়। ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ার পরপরই এটিতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণসহ আগুন ধরে যায় এবং কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ছেয়ে যায়। আগুন দ্রুত আশেপাশে থাকা অন্যান্য গাড়ি ও মোটরসাইকেলেও ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধার ও হতাহত
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকর্মীরা জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের বের করে আনার জন্য দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালান। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং আহত ২৫ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
থাই সংবাদমাধ্যম ‘খাওসোদ ইংলিশ’ জানিয়েছে, মালবাহী ট্রেনটি দক্ষিণাঞ্চলীয় চাচোয়েংসাও প্রদেশ থেকে ব্যাংককের ব্যাং সু ডিস্ট্রিক্টের দিকে যাচ্ছিল এবং বাসটি ব্যাংককের পূর্ব শহরতলী থেকে সিটি সেন্টারের দিকে যাচ্ছিল।
নিরাপত্তা প্রশ্ন
যে এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা ব্যাংককের কেন্দ্রীয় এবং অত্যন্ত ব্যস্ততম একটি অংশ হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রচুর পথচারী ও যানবাহনের ভিড় ছিল। থাইল্যান্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রেলওয়ের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনার পর নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা দেশটির বর্তমান রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অত্যন্ত প্রাচীন ও জরাজীর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও ব্যাংককের উত্তর-পূর্বে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর নির্মাণাধীন ক্রেন ভেঙে পড়ায় ২৮ জন নিহত এবং ৬৪ জন আহত হয়েছিলেন। একের পর এক এমন বড় দুর্ঘটনার পর থাইল্যান্ডের রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।



