মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর করেছেন ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। অত্যন্ত গোপনীয় এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা।
গোপন বৈঠকে কী আলোচনা হলো?
টাইমস অব ইসরাইলের খবরে বলা হয়, সফরকালে জামির আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ সমন্বয় এবং নীরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটকে আরও শক্তিশালী করার বিষয় গুরুত্ব পায়।
দ্বৈত নীতি ও কূটনৈতিক জটিলতা
এমন এক সময়ে এই সফরের খবর সামনে এলো, যখন আমিরাত একদিকে ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে তেলআবিব থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে যাতে ইরানের সরাসরি প্রতিক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না হয়। এই উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা যায় সম্প্রতি আবুধাবির এক বিরল কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ায়। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দাবি করা হয়, নেতানিয়াহুও আমিরাত সফর করেছেন। তবে দ্রুতই সেই দাবি অস্বীকার করে বিবৃতি দেয় ইউএই।
এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ‘আমিরাত অত্যন্ত কৌশলী দ্বৈত নীতি অনুসরণ করছে। তারা ইসরাইলের নিরাপত্তা ছাতার সুবিধা চায়, কিন্তু প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতার মূল্য নিয়েও আতঙ্কিত। আবুধাবির জন্য কোনো ফাঁস হওয়া ছবি বা নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিবৃতি শুধু রাজনৈতিক বিব্রতকর পরিস্থিতি নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি।’
ইরানের ভূমিকা ও আঞ্চলিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান মনে করছে ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠতা ভবিষ্যৎ সংঘাতের কারণ হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে ফুজাইরাহতে হামলার ঘটনার পর, যা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর ওপর দায় চাপানো হয়েছে, আমিরাত প্রকাশ্য প্রচারণার বদলে গোপন সমন্বয়কেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ইসরাইলি কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সুবিধার জন্য গোপন বৈঠকের তথ্য ফাঁস করছেন, যা আমিরাতের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
‘অন্ধকারে করমর্দন’
বর্তমানে আমিরাত-ইসরাইল সম্পর্ককে বিশ্লেষকরা বর্ণনা করছেন ‘অন্ধকারে করমর্দন’ হিসেবে—যেখানে দুই পক্ষ যুদ্ধসংক্রান্ত সমন্বয় করার মতো ঘনিষ্ঠ, কিন্তু সেই সম্পর্ক এখনো প্রকাশ্য শিরোনাম সহ্য করার মতো দৃঢ় নয়। এই গোপন সফর আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ইরান-মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।



