ইরান ইস্যুতে ধৈর্য হারাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ফক্স নিউজের 'হ্যানিটি' শোয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বেইজিংয়ের শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতা হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। চীন ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও ওয়াশিংটন এখনও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে।
পারমাণবিক আলোচনা স্থবির
আলোচনা চললেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি। ফলে আলোচনা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে বলেন, 'আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটা চুক্তিতে আসতে হবে।' সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন মজুত হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, 'জনসংযোগের জন্য এটা খুব জরুরি নয়, তবে আমাদের হাতে থাকলে স্বস্তি পাব।'
হরমুজে নতুন উত্তেজনা
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বুধবার আফ্রিকা থেকে আসা পশুবাহী একটি ভারতীয় কার্গো জাহাজ ওমান উপকূলের কাছে ডুবে যায়। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ভারত এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাহাজের ১৪ জন ক্রুকে ওমানের কোস্টগার্ড উদ্ধার করেছে। ব্রিটিশ সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, জাহাজটিতে সম্ভবত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা হয়েছে, যাতে বিস্ফোরণ ঘটে। অন্যদিকে ইউকেএমটিও জানিয়েছে, আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের কাছে নোঙর করা একটি জাহাজে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা উঠে সেটিকে ইরানের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।
চীনের অবস্থান
বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সি চিন পিং হরমুজ প্রণালির সামরিকীকরণ এবং সেখানে কোনো ধরনের টোল আদায়ের বিরোধিতা করেছেন। তিনি ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, সে বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হয়েছেন। চীন ভবিষ্যতে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, সি তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে চীন ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের চাপ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। তাই যুদ্ধ বন্ধ করতে চীনের সহায়তা চাইছেন তিনি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন ইরানের ওপর খুব বেশি চাপ দেবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বেইজিং থেকে সিএনবিসিকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চীন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, কারণ এটা তাদের নিজেদের স্বার্থেও জড়িত। সূত্র: রয়টার্স



