আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব ও ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ডেনমার্কের কাছে এর কোনো গুরুত্বই নেই।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান
বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। বৈঠকে ন্যাটো জোট নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু ডেনমার্কের কাছে এর কোনো মূল্য নেই। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস টেনে এনে ডেনমার্কে নাৎসি আধিপত্যের কথাও উল্লেখ করেন।
প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে তোপ
মহাসচিব মার্ক রুটে চতুরতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হতাশা তিনি বোঝেন। ইউরোপের কয়েকটি দেশের প্রতিরক্ষা বাজেটে ঘাটতি থাকলেও অধিকাংশ দেশই এখন ন্যাটোর তহবিলে আমেরিকাকে সহায়তা করছে। আলোচনার এক পর্যায়ে রুটে জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো বড় দেশগুলোর পক্ষে মৃদু সাফাই গাইতে চাইলে ট্রাম্প আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি সরাসরি যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে বলেন, ব্রিটিশরা দুই সপ্তাহের জন্যও আমাদের একটি দ্বীপ ব্যবহার করতে দেয়নি। একই সঙ্গে ইতালিকে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে খারাপ ও নিষ্ক্রিয় দেশ বলে আখ্যায়িত করেন।
রুটের কূটনৈতিক কৌশল
আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে মার্ক রুটে ট্রাম্পের কূটনৈতিক সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, আপনি স্পেনকে তাদের জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করতে রাজি করিয়েছেন। আপনি চাইলে অন্য দেশগুলোও রাজি হবে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা আরও জমে উঠলে রুটে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করে বলেন, দাভোস ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। তিনি নিজে চুক্তির ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন বলেও জানান।
শেষ কথা
বৈঠকের শেষ দিকে মার্ক রুটে ট্রাম্পের প্রশংসা করে তার ক্ষোভ অনেকটা প্রশমিত করেন। প্রশংসা শুনে ট্রাম্প হেসে বলেন, ঠিক এই কারণেই আমি রুটেকে এত পছন্দ করি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।



