বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর ব্রাজিলে ফিরলেন শুধু দানিলো, বাকি খেলোয়াড়রা ইউরোপেই
বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর ব্রাজিলে ফিরলেন শুধু দানিলো

বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে কত আয়োজন থাকে, কত উৎসব! ট্রফি নিয়ে বীরের বেশে দেশে ফেরার পর কোটি ভক্তের উন্মাদনা আর বাঁধভাঙা উল্লাসে ভেসে যায় পুরো দেশ। অথচ, মাত্র একটা পেনাল্টি মিস আর একটা হার সেই চেনা দৃশ্যপটকে কতটা নির্মমভাবে বদলে দিতে পারে, তা টের পাচ্ছে ব্রাজিল।

২৬ জনের মধ্যে কেবল দানিলো দেশে ফিরলেন

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে এসে পৌঁছেছে সেলেসাওদের বহনকারী বিমানটি। তবে চমকপ্রদ তথ্য হলো, স্কোয়াডের ২৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে কেবল ফ্লামেঙ্গোর ডিফেন্ডার দানিলো লুইজই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন।

দেশে পা রেখেই ব্রাজিলের এক্সিকিউটিভ কোঅর্ডিনেটর রদ্রিগো কায়েতানো কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্যানেলকে দায়িত্বে রেখে দেওয়ার পক্ষে কথা বলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, সিবিএফ তাদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আগামী বিশ্বকাপের নতুন চক্রের পরিকল্পনা শুরু করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিমানবন্দরে সমর্থকদের কোনো ক্ষোভ নেই

ব্রাজিল দলটিকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করার প্রায় দুই ঘণ্টা পর খেলোয়াড় ও অফিশিয়ালরা বিমানবন্দর থেকে বের হন। তবে এই ভরাডুবির পরও বিমানবন্দরে সমর্থকদের কোনো ক্ষোভ বা বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়নি তাদের। বিমানটিতে দানিলো এবং রদ্রিগো কায়েতানো ছাড়াও টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর হুয়ান দেশে ফিরেছেন। বাকি খেলোয়াড়রা ছুটি কাটাতে বা ক্লাবের উদ্দেশ্যে ইউরোপেই রয়ে গেছেন।

বিমানবন্দরে নামার পর দানিলোর মূলত ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে বের হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি রুট বদলে সাধারণ টার্মিনাল দিয়েই বাইরে আসেন। তবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার হতাশায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কোনো সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেলেসাওদের নতুন অধ্যায়: আনচেলত্তির প্যানেল বহাল

বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় বিশ্বকাপ ও তার আগের সময়টাতে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলের কাজের মূল্যায়ন করেন রদ্রিগো কায়েতানো। তিনি স্পষ্ট জানান, এই কোচিং প্যানেলকে দায়িত্বে রেখে দেওয়াই হবে জাতীয় দলের আগামী চক্রের মূল ভিত্তি।

কায়েতানো বলেন, ‘ম্যাচ শেষেই আমরা কথা বলেছি যে, সিবিএফ’র কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। গত বিশ্বকাপের মতো অস্থিরতা এড়াতে কোচিং স্টাফদের এই স্থায়িত্ব দেওয়াটা একটি ইতিবাচক দিক। যদিও এই ফলাফল আমাদের কারোরই প্রত্যাশিত ছিল না—তা সে খেলোয়াড়, স্টাফ কিংবা ব্রাজিলের আপামর জনগণই হোক; তবে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এবার মাঠে খেলার সুযোগ পেয়েছে, তাদের দারুণভাবে কাজে লাগানো হয়েছে এবং এই বিশ্বকাপে তারা নিজেদের প্রমাণও করেছে। আমার মনে হয়, এখান থেকেই আমরা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রীতি ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবা শুরু করতে পারি। আশা করছি, গতবারের চেয়ে এবারের নতুন চক্রটি অনেক বেশি স্থিতিশীল হবে।’

এই ম্যানেজার স্বীকার করেছেন যে, শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়াটা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নিচে, তবে এখন পর্যন্ত হওয়া কাজের সামগ্রিক মূল্যায়নকে তিনি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

তার ভাষায়, ‘প্রথমত, এটা ছিল এক বছর চার মাসের কাজ এবং বিশ্বকাপে আমরা সবাই আরও অনেক দূর যাওয়ার আশা করেছিলাম। তবে এবারের টুর্নামেন্ট যে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, তা ম্যাচগুলোই প্রমাণ করছে। দুর্ভাগ্যবশত, দলের পারফর্ম্যান্সে উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও আমাদের শেষ ষোলোতেই থেমে যেতে হলো। তারপরও সামগ্রিক মূল্যায়ন ইতিবাচক। তা যদি না হতো, তবে তিনি (আনচেলত্তি) দায়িত্বে থাকতেন না বা আমরাও তাকে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতাম না।’

বাকি খেলোয়াড়রা ইউরোপে, প্রীতি ম্যাচ সেপ্টেম্বরে

স্কোয়াডের বাকি খেলোয়াড়রা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ব্রাজিলে না ফিরে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। প্রত্যেকে তাদের ব্যক্তিগত পরিকল্পনা অনুযায়ী ছুটির উদ্দেশ্যে কিংবা তাদের ক্লাব যে দেশে, সেখানে চলে গেছেন। বিশ্বকাপ পরবর্তী মিশনে ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রথম প্রীতি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে আগামী সেপ্টেম্বরে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে।