আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান দাবি
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট নিজেকে বড় জায়নবাদী দাবি

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী (Zionist) রাষ্ট্রপ্রধান’ বলে দাবি করেন। ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরাইলপন্থী নীতির সমর্থন

গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় মিলেই তার ইসরাইলপন্থী পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাকারীদের কড়া ভাষায় জবাব দেন। বিশেষ করে কট্টর উদারতাবাদী (লিবার্টারিয়ান) চিন্তাবিদ হান্স-হারম্যান হোপের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ইসরাইলের একজন শক্তিশালী সমর্থক হওয়ায় হোপে বিরক্ত।’ এরপর উপস্থিত দর্শকদের করতালির মধ্যে তিনি গর্বের সঙ্গে নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে উল্লেখ করেন।

দার্শনিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি নিজের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন মিলেই। তার দাবি, পশ্চিমা সভ্যতার তিনটি মৌলিক ভিত্তি—জীবন, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার—তাওরাত (তোরাহ) এবং বাইবেলের ‘দশটি আদেশ’ (Ten Commandments) থেকেই উৎসারিত। বাইবেলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য আইনের ফলকে যা লেখা রয়েছে তা হলো—চুরি করা ভুল, হত্যা করা ভুল।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, বাইবেলের এক্সোডাস—অর্থাৎ মিসর থেকে ইসরাইলিদের ঐতিহাসিক প্রস্থানের ঘটনাতেই স্বাধীনতার মূল ধারণা নিহিত রয়েছে। প্রথম আদেশের প্রসঙ্গ টেনে তার ভাষ্য, ‘সেখানেই স্বাধীনতা, জীবন এবং সম্পত্তিকে অলঙ্ঘনীয় অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইহুদি ধর্মের প্রতি আগ্রহ

নিজেকে একজন ‘অ্যানার্কো-ক্যাপিটালিস্ট’ (Anarcho-Capitalist) হিসেবে পরিচয় দেওয়া হাভিয়ের মিলেই দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি ধর্মের প্রতি ব্যক্তিগত আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি ইহুদি ধর্মীয় নেতাদের (র‍্যাবাই) সঙ্গে পরামর্শ করেছেন এবং তাদের কাছ থেকে ধর্মীয় দিকনির্দেশনাও নিয়েছেন।

ধর্মীয় মূল্যবোধকে অপরিবর্তনীয় উল্লেখ করে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই মূল্যবোধগুলো নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা যায় না। কিছু বিষয়ে আমরা কখনোই আপস করব না। পশ্চিমা সভ্যতার সব অগ্রগতি এই মূল্যবোধগুলোর ভিত্তিতেই অর্জিত হয়েছে।’

নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদের সমালোচনা

আধুনিক দার্শনিক চিন্তাধারার সমালোচনা করে তিনি ‘নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ’ (Moral Relativism) প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, সবকিছুই আপেক্ষিক—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু মৌলিক নৈতিক মূল্যবোধ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা কখনোই লঙ্ঘন করা উচিত নয়।

পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন

২০২৩ সালের শেষদিকে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন হাভিয়ের মিলেই। তিনি দেশটিকে চীন ও রাশিয়ার প্রভাববলয় থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নীতি অনুসরণ করছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে তিনি ইসরাইল সফর করেন। সেখানে জেরুজালেমের পবিত্র ওয়েস্টার্ন ওয়াল (পশ্চিম দেয়াল) পরিদর্শন ও প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তিনি বুয়েনস এইরেসে অবস্থিত আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতিও দেন। ফিলিস্তিনিদের দাবি এবং জেরুজালেমের চূড়ান্ত মর্যাদা নিয়ে চলমান আন্তর্জাতিক বিরোধের কারণে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়।