ভাঙ্গায় শিক্ষা কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ, শিক্ষকদের ৭ ঘণ্টা অবরোধ
ভাঙ্গায় শিক্ষা কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ, শিক্ষকদের ৭ ঘণ্টা অবরোধ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপসচিব সাখাওয়াত হোসেন সরকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে অনতিবিলম্বে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কর্মস্থল থেকে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙা উপজেলায় যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

শিক্ষকদের ৭ ঘণ্টা অবরোধ

শিক্ষা কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজের সংবাদ পেয়ে ভাঙ্গা উপজেলা শিক্ষক ও দপ্তরিরা ছুটে এসে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ৭ ঘণ্টা তার রুমে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শিক্ষকরা ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে শিক্ষক, দপ্তরিরা এবং শিক্ষা কর্মকর্তাকে মুখোমুখি বক্তব্য নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। বেলা সাড়ে ৪টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

দুর্নীতির অভিযোগ

এ ঘটনায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি সামচুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে শিক্ষক বদলি বাণিজ্য, ভুয়া নিয়োগে দপ্তরি নিয়োগ ঘুস বাণিজ্য করে তাদের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভাঙ্গা উপজেলার মধ্যে ২০টির মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন টেন্ডার ছাড়া নিজ ক্ষমতায় বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য অতিরিক্ত ঘর নির্মাণের নামে ৩ লাখ টাকা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থ আত্মসাৎ ও অনৈতিক আচরণ

এছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নামের অ্যাকাউন্টে বরাদ্দকৃত টাকা না রেখে তার নিজ অ্যাকাউন্টে এসব টাকা জমা রেখেছেন। সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ, সুন্দরী নারী শিক্ষিকাদের অনৈতিক প্রস্তাবসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার অন্যতম সহযোগী চাকরিচ্যুত জনৈক এক প্রধান শিক্ষকের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ভাঙ্গা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা। তার বিরুদ্ধে আইনগত বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আমার বদলি হয়েছে; এ কথা শুনে অনেক শিক্ষক ও কর্মচারীরা আমার অফিসে হাজির হয়েছেন। সবার অভিযোগ শুনে আমি তাদের আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করব। এছাড়া টাকা-পয়সা নেওয়ার যে অভিযোগ করেছে তা পুরোপুরি সত্য নয়।'

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মন্তব্য

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিয়া মহিউদ্দিন জানান, 'তাকে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ নেই। তবে মৌখিকভাবে অনেক অভিযোগ পেয়েছি তার বিরুদ্ধে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদক্ষেপ

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, 'শিক্ষক ও দপ্তরিদের অভিযোগ শুনেছি। শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া যাদের টাকা-পয়সা নিয়েছেন তাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবারের মধ্যে লেনদেন পরিশোধ করার নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাছাড়া শিক্ষা অফিসের দুইটি অ্যাকাউন্ট ও তার ব্যক্তিগত একটা অ্যাকাউন্টে কোনো ধরনের লেনদেন না করার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলোচনা না করে যেন লেনদেন না করা হয়।'

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে বদলির কর্মস্থলে যোগদান না করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।