আইনি চ্যালেঞ্জের পর পিরিয়ড পণ্যে কর কমাচ্ছে পাকিস্তান
পাকিস্তান সরকার 'পিরিয়ড ট্যাক্স' নামে পরিচিত স্যানিটারি পণ্যের ওপর আরোপিত ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির অধিকার কর্মীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে প্রচলিত ট্যাবু দূর করতে সাহায্য করতে পারে।
বাজেটে ঘোষণা
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের বাজেটে ঘোষণা করা হয় যে স্যানিটারি পণ্য ও গর্ভনিরোধক সামগ্রীর ওপর আরোপিত ১৮% বিক্রয় কর প্রত্যাহার করা হবে। অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব বলেন, এ ধরনের পণ্য নারীদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে পূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য অপরিহার্য।
আইনি চ্যালেঞ্জ
গত বছরের অক্টোবরে ২৯ বছর বয়সী আহসান জাহাঙ্গীর খান এবং ২৫ বছর বয়সী মাহনুর ওমর নামের দুই আইনজীবী তথাকথিত 'পিরিয়ড ট্যাক্স' প্রত্যাহার এবং স্যানিটারি পণ্যকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলার আবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে স্থানীয়ভাবে তৈরি স্যানিটারি পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর এবং আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে।
ইউনিসেফের তথ্য
ইউনিসেফের মতে, অন্যান্য স্থানীয় করের সঙ্গে যোগ হয়ে পাকিস্তানের নারীদের পিরিয়ড পণ্যের ওপর মোট ৪০ শতাংশ অতিরিক্ত মূল্য দিতে হয়, যা সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সামর্থ্যের বাইরে। দুই আইনজীবীর লড়াই ছিল স্যানিটারি পণ্যের দাম কমানো এবং নারীদের জন্য সহজলভ্য করা।
সরকারের অবস্থান
মামলার পর আদালত সরকারের কাছে জবাব চায়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্যানিটারি পণ্যের ওপর করহার অতিরিক্ত বা বৈষম্যমূলক নয়, কারণ এটি রাষ্ট্রের রাজস্ব চাহিদা মেটানোর জন্য তৈরি। তবে বছরের শুরুতে আদালতে দেওয়া জবাবে করকে বৈষম্যমূলক না বললেও সরকারের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
বিক্রয় কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও, মামলার আবেদনকারী দুই আইনজীবী স্যানিটারি প্যাড তৈরির কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত শুল্কসহ পুরো করব্যবস্থা বিলোপের দাবি জানিয়েছেন। সরকার ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর প্রত্যাহার করলেও মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি; এটি এখন চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের জন্য প্রস্তুত।
অধিকার কর্মীদের মতামত
পাকিস্তানের অধিকার কর্মীরা বলছেন, ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর প্রত্যাহার করলেও তা সাধারণ নারীদের নাগালে আসবে না। পাকিস্তানের প্রায় ৪৫ ভাগ মানুষ বৈশ্বিক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন, যাদের দৈনিক আয় ১ হাজার ১৭৫ পাকিস্তানি রুপি। এক প্যাকেট স্যানিটারি প্যাড কিনতে এক দিনের আয়ের তিন ভাগের এক ভাগ খরচ হয়ে যাবে।



