রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়ায় একটি ফ্ল্যাট থেকে রাবেয়া ওরফে জেনি খান (২৪) নামের এক নার্সিং শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ঘটনার রহস্যভেদ হয়নি। খুঁজে পাওয়া যায়নি নিহতের স্বামীকেও।
মামলা দায়ের
নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে মামলাটি করেছেন। মামলায় নিহতের স্বামী আশিকুজ্জামানকে আসামি করা হয়েছে। তবে মরদেহ উদ্ধারের দু’দিন আগে থেকেই আশিকুজ্জামান নিখোঁজ রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে পূর্ব কাজীপাড়ার কামারের গলির একটি সাততলা ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে নিহতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের পরিচয়
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত রাবেয়া শ্যাওড়াপাড়া ট্রমা ইনস্টিটিউটের নার্সিং বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে স্বামী আশিকুজ্জামানের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। রাবেয়া কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার কলাদিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে।
ঘটনাস্থলের বর্ণনা
মঙ্গলবার বিকালের দিকে ফ্ল্যাটের বাইরে থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানান। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এরপর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে বিছানার ওপর রাবেয়ার অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া যায়।
দাম্পত্য কলহ
পারিবারিক অমতে বিয়ে করায় তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, গত ১৪ জুন রাতে রাবেয়ার স্বামী আশিকুজ্জামান বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। এরপর থেকে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, “মরদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। নিহতের শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন রয়েছে কিনা— তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও অন্যান্য আলামত বিবেচনায় এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”
ওসি জানান, এই ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নিহতের স্বামীকে আসামি করা হয়েছে। নিহতের স্বামীকে আটকের চেষ্টা চলছে। তাকে পেলে ঘটনার রহস্যভেদ করা সম্ভব হবে।



