ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সফর স্থগিত করলেন শাহবাজ শরিফ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সফর স্থগিত করলেন শাহবাজ শরিফ

সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করলেন শাহবাজ শরিফ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সুইজারল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেছেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক উপায়ে স্বাক্ষরিত ও কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে এই চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের প্রস্তাবিত সফর স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী কৌশলগত কয়েক স্তরের প্রক্রিয়ায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে পাকিস্তান।

শাহবাজ শরিফের বিবৃতি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেছেন, এই সমঝোতা স্মারক অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে স্বাক্ষর

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সহযোগীর পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বের শিল্পোন্ন দেশগুলোর জোট জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলন শেষে প্যালেস অব ভার্সাইয়ে মোমবাতির আলোয় নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। সে সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং অন্যান্য অতিথিরা তালি দিয়ে স্বাগত জানান। প্রাসাদ থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এইমাত্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করলাম।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, দলিলটি প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়েছে। জানানো হয়েছে, এই সমঝোতার পর এখন ৬০ দিনের মধ্যে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি হবে এবং পারস্পরিক সম্মতিতে সময় বাড়ানোও যাবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার শুরু করা এবং ইরানের ওপর 'সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা' প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা শুরু করার অঙ্গীকার রয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার (৩০ হাজার কোটি) তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি তেহরানের পক্ষ থেকে পুনরায় অঙ্গীকার করা হয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রাথমিক চুক্তি চূড়ান্ত নয় এবং এটি ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার বোমা বর্ষণে ফিরে যেতে পারে।

ইরানের অবস্থান

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ, যিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার অবিশ্বাস রয়ে গেছে এবং ইরানের আঙুল ট্রিগারের ওপরই আছে।