ইরান-মার্কিন চুক্তি: ইসরাইলে ক্ষোভের আগুন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা
ইরান-মার্কিন চুক্তি: ইসরাইলে ক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই ঘোষণা দেওয়ার পরই ইসরাইলে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

চুক্তির বিবরণ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্সে লেখেন, 'আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।' তিনি আরও জানান, এই চুক্তিতে সব ফ্রন্টে—লেবাননসহ—সামরিক অভিযান 'তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ' করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনায় তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং চুক্তিটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হবে।

ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে 'সম্পূর্ণ' বলে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘিরাবাবাদি জানান, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর ইসরাইলি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নয়। একই সময়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে একাধিক হামলা চালায়। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, ইসরাইল এই চুক্তির দ্বারা বাধ্য নয় এবং লেবানন সংক্রান্ত কোনো শর্ত মানবে না।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, ইসরাইলি সেনারা লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় 'নিরাপত্তা জোনে' অনির্দিষ্টকাল অবস্থান করবে। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের দখলে থাকা এলাকাগুলো থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হবে এবং ওই এলাকার বাড়িঘরগুলো 'সন্ত্রাসী অবকাঠামো' হিসেবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মন্ত্রীদের কড়া বক্তব্য

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেন, এই চুক্তি ইসরাইল ও 'সমগ্র মুক্ত বিশ্বের জন্য খারাপ' এবং ইসরাইলকে একাই ইরানের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতেমার বেন গাভির বলেন, 'ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ইসরাইল কোনো অধীন রাষ্ট্র নয়।' সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রী মিকি জোহার বলেন, 'ইসরাইল কেবল তখনই ব্যবস্থা নেবে যখন তার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।'

মিডিয়া ও বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া

ইসরাইলি সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। একজন সাংবাদিক বলেন, ইসরাইলের এখন সবচেয়ে বেশি দরকার 'সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা' এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে 'বিশ্বাসঘাতক' আখ্যা দেন। ইসরাইলের 'চ্যানেল ১৪ নিউজ'-এর সাংবাদিক ইনন মাগাল এক্সে লেখেন, ইরান ও লেবাননের যুদ্ধে ইসরাইলকে একা ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে পরাজিত ব্যক্তি এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ঘৃণ্য ব্যক্তি বলে আখ্যা দেন।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান 'ইসরাইল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরাম' (আইডিএসএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, 'ইরানের সন্ত্রাসী সরকারের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য এবং বর্তমান চুক্তিটির পরিণতিও ভিন্ন কিছু হবে না।' তারা আরও বলেছে, 'এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর, সামনে কী আসছে তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার এবং লেবানন ও ইরান থেকে হুমকি দূর করার ক্ষেত্রে ইসরাইলের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস না করার উপযুক্ত সময়।'

বিরোধীদের সমালোচনা

বিরোধী নেতা ইয়ার গোলান বলেন, এই চুক্তির ফলে ইসরাইল আরও দুর্বল অবস্থানে পড়েছে এবং তিনি সরকারের নীতিকে ব্যর্থ বলে সমালোচনা করেন। সাবেক সেনাপ্রধান ও রাজনৈতিক নেতা গাদি আইজেনকট বলেন, এই চুক্তি ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম এবং ইসরাইলকে যুদ্ধ ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।