ভারতে বাংলাদেশি মাছের চাহিদা বাড়ছে, বৈদেশিক মুদ্রা আয় রেকর্ড
ভারতে বাংলাদেশি মাছের চাহিদা বাড়ছে, আয় রেকর্ড

ভারতের বাজারে বাংলাদেশের মাছের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে পাবদা, পাঙ্গাস, টেংরা ও তেলাপিয়া প্রজাতির মাছের চাহিদা বেশি থাকায় রফতানির সুযোগ প্রসারিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেনাপোল স্থলবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বন্দর দিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৩ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন মাছ রফতানি হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ১৬৯ টনই পাবদা মাছ। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে প্রায় ৪৭০ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

কর্মশালায় তথ্য উপস্থাপন

সোমবার যশোর জেলা মৎস্য অফিসে অনুষ্ঠিত ‘রফতানি বৃদ্ধিতে মাছের পোনা উৎপাদনে বৈচিত্র্যকরণ ও চাষ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। কর্মশালার আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও বাংলাদেশ নন-প্যাকার ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএনপিএফইএ)। এতে মৎস্য চাষি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন উদ্যোক্তারা অংশ নেন।

যশোরের চাষিদের ভূমিকা

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন জানান, যশোরের মণিরামপুর, ঝিকরগাছা ও সদর উপজেলার লক্ষাধিক চাষি রফতানিমুখী মাছ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। তাদের উৎপাদিত মাছই রফতানির বড় অংশ জোগান দিচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে পাবদা, ইলিশ, ভেটকি, পারশে, ট্যাংরা ও পাঙ্গাসসহ মোট ৬৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৯৯ কেজি মাছ ভারতে রফতানি হয়েছে। এর আর্থিক মূল্য ছিল ২ কোটি ৭২ লাখ ১৩ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। মোট রফতানির মধ্যে ৭৬ দশমিক ৮০ শতাংশই ছিল পাবদা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রফতানি আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি

২০২৩-২৪ অর্থবছরে একই বন্দর দিয়ে রফতানি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮২ লাখ ৯২ হাজার ৫৫০ কেজিতে। সে সময় আয় হয় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা)। এক বছরের ব্যবধানে রফতানির পরিমাণ ও আয়— উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়ভাবে পোনা উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রফতানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে এ খাত আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

পাবদা মাছের আধিপত্য

কর্মশালায় বিপিসির সহকারী পরিচালক পলাশ ঘোষ জানান, বর্তমানে মোট মাছ রফতানির ৮৮ দশমিক ৫৫ শতাংশই পাবদা মাছ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৫২০ কেজি পাবদা রফতানি হয়েছে। এ ছাড়া ইলিশ, টেংরা, পারশে, ভেটকি ও কার্পজাতীয় মাছও রফতানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আমদানি করা মাছের তুলনায় রফতানি আয় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাছ রফতানিতে প্রায় ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক। তবে ইতিবাচক অগ্রগতির পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

কর্মশালায় বক্তব্য

কর্মশালায় বক্তব্য দেন– সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ, যশোর হ্যাচারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন গোলদার, নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের সমন্বয়ক শেখ মাসুদুর রহমান মিঠু প্রমুখ।