সৌদি আরবে তেল আবিষ্কারের গল্পটি কোনো সিনেমার কাহিনির চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়। ১ নম্বর, ২ নম্বর, ৩ নম্বর—এভাবে ৬ নম্বর কূপ পর্যন্ত খনন করা হলো। কোথাও কিছু চিহ্ন মিলল, কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক তেলের বড় মজুত মিলল না। তারপর এল সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৯৩৮ সালের ৪ মার্চ, দাম্মামের ৭ নম্বর কূপে প্রায় ১ হাজার ৪৪০ মিটার গভীরে পৌঁছানোর পর তেল পাওয়া গেল। এ আবিষ্কারই সৌদি আরবের ইতিহাস বদলে দেয়।
তেল অনুসন্ধানের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৩০-এর দশকের শুরুর দিকে। সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ তেলের সম্ভাবনা দেখে আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানান। ক্যালিফোর্নিয়া আরবিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি (ক্যাসক) অনুসন্ধানের অনুমতি পায়। প্রথম ছয়টি কূপ ব্যর্থ হওয়ার পর সপ্তম কূপে সফলতা আসে। এই তেলক্ষেত্রটি পরবর্তীতে ‘ঘাওয়ার’ নামে পরিচিত হয়, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র।
তেল আবিষ্কারের পর সৌদি আরবের অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। দেশটি বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়। এই তেল সম্পদই সৌদি আরবকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করে।



