ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি থমকে থাকার কারণ
ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি চরম সংকটে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতিতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।
চুক্তিতে তড়িঘড়ি নয় ওয়াশিংটনের
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কোনো তড়িঘড়ি চুক্তিতে পৌঁছতে ওয়াশিংটন মোটেও উদগ্রীব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে একটি প্রস্তাব পেশ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেটি খতিয়ে দেখবে। তবে সেই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি এখনো নিশ্চিত নন।
এর আগে ফক্স নিউজকেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য তার ওপর সময়ের কোনো চাপ নেই এবং তিনি একটি ‘ভালো চুক্তির’ জন্য অপেক্ষা করবেন।
আলোচনার পথে প্রধান বাধা
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বড় ইস্যু আলোচনার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হরমুজ প্রণালি। ইরান এটিকে নিজেদের সার্বভৌম এলাকা দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে চায়। এ অঞ্চল এখন কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে আরও গভীর করছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুইপক্ষের অবস্থান বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দাবি জানালেও ইরান এটিকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্য বলে দাবি করছে। বর্তমানে ইরানের কাছে ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, এই ইউরেনিয়ামের পুরোটা যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকবে।
অন্যান্য জটিল ইস্যু
- লেবানন ও হিজবুল্লাহ ইস্যু
- ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি
- অবরোধ প্রত্যাহার
- আটকে থাকা অর্থ ফেরত
- ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি
সূত্র: আল জাজিরা



