পাঁচ বছরে বিশ্বে বিলিয়নেয়ার সংখ্যা ৪ হাজারে পৌঁছাতে পারে
পাঁচ বছরে বিলিয়নেয়ার সংখ্যা ৪ হাজারে পৌঁছাতে পারে

বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদ অর্জনের গতি এখন অভাবনীয়। সম্পত্তি সংক্রান্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্র্যাঙ্কের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৪ হাজারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৩ হাজার ১১০ জন। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে এই সংখ্যা আরও ২৫ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৯১৫ জনে দাঁড়াবে।

শুধু বিলিয়নেয়ার নয়, মাল্টিমিলিয়নেয়ার বা অতি ধনী ব্যক্তিদের সংখ্যাও অবিশ্বাস্য হারে বাড়ছে। ২০২১ সালে ৩ কোটি ডলার বা তার চেয়ে বেশি সম্পদের অধিকারী মানুষের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬২ হাজার ১৯১ জন। বর্তমান তথ্যমতে, সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৬২৬ জনে। অর্থাৎ, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়েছে ৩০০ শতাংশেরও বেশি।

সম্পদ বাড়ার নেপথ্যে এআই ও প্রযুক্তি

সম্পদ এমন দ্রুত হারে বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন নাইট ফ্র্যাঙ্কের গবেষণা প্রধান লিয়াম বেইলি। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মুনাফা বিলিয়নেয়ার ও মাল্টিমিলিয়নেয়ারদের সম্পদকে ‘সুপারচার্জড’ করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটি ব্যবসাকে বড় করার সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। প্রযুক্তি ও এআই সেই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে, যার ফলে দ্রুত বড় বড় সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোথায় দ্রুত বাড়ছে বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা?

গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে দ্রুত বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বাড়বে তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরবে। ২০২৬ সালে সেখানে ২৩ জন বিলিয়নেয়ার থাকলেও, ২০৩১ সালের মধ্যে তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে ৬৫ জনে দাঁড়াবে। একই সময়ে পোল্যান্ডে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ১৩ থেকে ২৯ জনে (১২৪ শতাংশ) এবং সুইডেনে ৩২ থেকে ৫৮ জনে (৮১ শতাংশ) উন্নীত হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভৌগোলিক পরিবর্তনের আভাস দিয়ে নাইট ফ্র্যাঙ্ক বলছে, বর্তমানে বিশ্বের মোট বিলিয়নেয়ারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তর আমেরিকায় বসবাস করেন। তবে ২০৩১ সালের মধ্যে এই অবস্থান দখল করবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল। তখন এই অঞ্চলের বিলিয়নেয়াররা বৈশ্বিক মোটের ৩৭.৫ শতাংশ হবে, যেখানে উত্তর আমেরিকার অংশ দাঁড়াবে ২৭.৮ শতাংশ।

বৈষম্যের উদ্বেগ ও করের দাবি

ধনকুবেরদের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত বছর ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি রিপোর্ট-এর তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ০.০০১ শতাংশ বা ৬০ হাজারেরও কম মানুষ সমগ্র মানবজাতির নিম্ন অর্ধেকের তুলনায় তিনগুণ বেশি সম্পদের মালিক। ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অক্সফাম জানিয়েছে, গত বছর প্রথমবারের মতো বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে এবং তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮.৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

এই ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের কারণে বিশ্বনেতাদের কাছে ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সমাজের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিরা তাদের বিপুল অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব কিনে নিচ্ছেন।

বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকা

ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, যার মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৮৫.৫ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে আছেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ (২৭২.৫ বিলিয়ন ডলার) এবং তৃতীয় স্থানে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস (২৫৯ বিলিয়ন ডলার)।

যুক্তরাজ্যে ধনীদের পালায়ন

তবে সব দেশে ধনীদের সংখ্যা বাড়ছে না। দ্য সানডে টাইমসের তথ্যমতে, ব্রিটেনের সবচেয়ে ধনী পরিবার হলো হিন্দুজা পরিবার, যাদের মোট সম্পদ ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ড। তবে যুক্তরাজ্যে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা কমছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট ১৫৬ জন বিলিয়নেয়ার ছিলেন, যা তালিকার ৩৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন। এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১৬৫ জন।

নাইট ফ্র্যাঙ্কের ররি প্যান বলেন, চরম ধনীরা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ভ্রাম্যমাণ হয়ে উঠেছেন। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, কর সংস্কার এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে তারা কেবল কয়েকটি নির্দিষ্ট শহরে বিনিয়োগ করতে বা পরিবার নিয়ে থাকতে আগ্রহী হচ্ছেন, যেখানে সুযোগ ও সুবিধা রয়েছে। ফলে তাদের জন্য বাজারের তালিকা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান