যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে বাধ্য হচ্ছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার হারাচ্ছে।
ইরানের অর্থনৈতিক সংকট
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত এবং তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করতে দ্রুত প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, দেশটির সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করছে, যা অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করছে। ট্রাম্প বলেন, ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ
ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এটি ইরানের প্রধান আয়ের উৎস বন্ধ করে দিয়েছে। তার মতে, ইরান প্রকাশ্যে প্রণালী বন্ধ রাখার পক্ষে কথা বললেও, বাস্তবে এটি দ্রুত খুলে দিতে চায়। তিনি আরও জানান, কয়েকদিন আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সামরিক পদক্ষেপের হুমকি
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে পরিস্থিতি সামরিক পদক্ষেপের দিকে যেতে পারে, যেখানে ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার কথাও উল্লেখ করেন। এদিকে হরমুজ প্রণালীকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক তেল বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
এর আগে, ট্রাম্প ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত নিয়ে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের অনুরোধে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে, যাতে ইরান আলোচনার জন্য একটি যৌথ প্রস্তাব দিতে পারে।



