যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) গ্রিনকার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি ইস্যুতে কঠোর নিয়মের ঘোষণা দিয়ে শেষ মুহূর্তে নিজেদের অবস্থান থেকে আংশিক সরে এসেছে। গত সপ্তাহে এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, বিশেষ কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য আবেদনকারী সব অভিবাসীকে গ্রিনকার্ড পাওয়ার আগে নিজ দেশে ফিরে অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে প্রশাসন এখন স্পষ্ট করেছে যে এটি কোনো ঢালাও নিয়ম নয় এবং সব অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে না।
পিছুটানের কারণ কী?
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বিবৃতিতে জানানো হয়, পূর্বের নীতিতে কোনো বড় পরিবর্তন আনা হয়নি। গ্রিনকার্ড আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) কর্মকর্তাদের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করে বলেন, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি এখতিয়ার আগে থেকেই ছিল; নতুন নির্দেশনায় কেবল সেই বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করছেন বা যেসব দেশের নাগরিকরা বেশি সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বেশি প্রযোজ্য হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
প্রশাসনের এই আকস্মিক পিছুটানকে বিশেষজ্ঞরা ‘আংশিক ইউ-টার্ন’ হিসেবে দেখছেন। তবে এই ব্যাখ্যার পরও অভিবাসী ও তাদের আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। কার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে এবং কে ছাড় পাবেন, তা সুনির্দিষ্ট নয়। এমনকি নীতিটি জনসমক্ষে আসার সময় ডিএইচএস-এর ভেতরেও এর পরিধি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টিকে নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং প্রশাসনিক অভ্যন্তরীণ সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অভিবাসন আইনজীবীদের অভিজ্ঞতা
ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই বেশ কিছু গ্রিনকার্ড ইন্টারভিউতে আবেদনকারীদের প্রশ্ন করা হয়েছে কেন তারা নিজ দেশে ফিরে আবেদন করছেন না এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পেছনে বিশেষ কারণ আছে কি না। থার্ড ওয়ে নামের একটি সামাজিক নীতি নির্ধারণী সংস্থার প্রধান ও ইউএসসিআইএস-এর সাবেক কর্মকর্তা সারাহ পিয়ার্স বলেন, জনসাধারণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে প্রশাসন এখন জটলা সামাল দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
ব্যবসায়ী সংগঠনের সমালোচনা
মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের মতো বড় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এই নীতির সমালোচনা করে জানিয়েছে, উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত বিঘ্নিত হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ গ্রিনকার্ড দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার আবেদন ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়ায় মঞ্জুর করা হয়, যা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিনকার্ড পাওয়ার সুযোগ দেয়।
বড় প্রভাব পড়তে পারত যেখানে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কড়াকড়ির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারত পারিবারিক স্পনসরশিপের আওতায় থাকা অভিবাসীদের ওপর এবং সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতে কর্মরত এইচ-১বি ভিসাধারী দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ওপর। তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের আংশিক পিছুটান ও কর্মকর্তাদের বিবেচনার ওপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা অভিবাসী মহলে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, আইনি অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।



