মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান করছে। বর্তমানে দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল ক্রয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
বিশ্লেষক যা বলছেন
ব্যবসায়িক বিশ্লেষণমূলক প্ল্যাটফর্ম 'কেপলার'-এর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমান সংকটকালে ভারতের কাছে তেল ও গ্যাস রপ্তানি বাড়ানোর মতো যথেষ্ট সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অতিরিক্ত সরবরাহ কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা জ্বালানির সম্পূর্ণ বিকল্প হতে পারবে না। অর্থাৎ, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ভারতের যে বিশাল নির্ভরতা রয়েছে, তা পুরোপুরি মার্কিন তেল দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
রাশিয়ার সঙ্গেও বাণিজ্য বৃদ্ধি
এই সংকটের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি রাশিয়ার সাথেও ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত কর্তৃক রাশিয়া থেকে আমদানি করা তেলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর
এমন এক জটিল সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমানে ভারত সফর করছেন। দ্বিপাক্ষিক এই সফরে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে ভারত যখন তাদের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণের চেষ্টা করছে, তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সূত্র: আল-জাজিরা।



