ইন্টারনেটে বিভিন্ন পোলের মাধ্যমে নেটিজেনরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন, যার মধ্যে প্রিয় ও অপছন্দনীয় দেশের নামও থাকে। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, অন্য দেশ সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয় সরকার ও সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড, সংস্কৃতি, ধর্ম ও পর্যটকদের আচরণের ওপর ভিত্তি করে। বিশ্বের সবচেয়ে অপছন্দনীয় দেশগুলোর তালিকা ও তাদের নেতিবাচক ভাবমূর্তির কারণ নিচে আলোচনা করা হলো।
শীর্ষ ৫ অপছন্দনীয় দেশ
যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বজুড়ে আধিপত্যবাদী শক্তি হিসেবে দেখা হয়। বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট, বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ শুরু করার ইতিহাস এবং অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের কারণে দেশটি শীর্ষ ৫-এ অবস্থান করছে।
উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য বিশ্বব্যাপী সমালোচিত। নাগরিকদের বাকস্বাধীনতার ওপর তীব্র নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং সরকারবিরোধী কার্যকলাপের জন্য শ্রমশিবিরে বন্দি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
রাশিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
চীন
১৯৮৯ সালে তিয়ানানমেন স্কয়ারে বিক্ষোভ দমনে পিপলস লিবারেশন আর্মির হাতে অসংখ্য নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা এবং করোনাভাইরাস মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর চীন-বিরোধী মনোভাব তীব্র হয়েছে।
ইসরায়েল
ফিলিস্তিনিদের প্রতি আচরণ এবং পশ্চিম তীরে দখলদারিত্বের কারণে ইসরায়েল ব্যাপক অজনপ্রিয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামলা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়েছে।
মানবাধিকার ও অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত দেশ
ইরান
নারী ও শিশুদের অধিকার সংকুচিত এবং ২০২২ সালের গণবিক্ষোভে সরকারের সহিংস দমনপীড়নের কারণে দেশটি তালিকায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।
আফগানিস্তান
দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর নারীদের অধিকার পুরোপুরি খর্ব করা হয়েছে।
কাতার
মানবাধিকার লঙ্ঘন, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে কাতার সমালোচিত। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের নির্মাণকাজে অভিবাসী শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য করা হয়, যাতে হাজার হাজার শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে।
সৌদি আরব
নারীদের অধিকারের ক্ষেত্রে মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে।
তুরস্ক
২০১৭ সালে জাতিসংঘ তুরস্কের বিরুদ্ধে বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে।
ভ্যাটিকান সিটি
চার্চের ভেতরের যৌন নিপীড়নের কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার কারণে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র
ভারত
অপুষ্টি, শিশুশ্রম, মানব পাচার এবং আধুনিক দাসত্বের মতো সমস্যা আজও বিদ্যমান।
পাকিস্তান
ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লুকিয়ে ছিলেন, যাকে মার্কিন সিল সদস্যরা হত্যা করে।
অপরাধ, সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
মেক্সিকো
চমৎকার সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি থাকলেও দুর্নীতি এবং মাদক কার্টেলের নৃশংসতার কারণে ভাবমূর্তি কলঙ্কিত। জাতিসংঘ মেক্সিকোকে নারীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক স্থান ঘোষণা করেছে।
ইন্দোনেশিয়া
১৯৯৮ সালে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক সংকটের সময় চীনা সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যাতে সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয় এবং ১০০-র বেশি নারী যৌন নিপীড়নের শিকার হন।
নাইজেরিয়া
প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দুর্নীতি, বোকো হারামের সন্ত্রাসী হুমকি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে লড়াই করতে হচ্ছে।
আলজেরিয়া
স্বৈরতান্ত্রিক সরকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অভাব এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমনপীড়নের কারণে সমালোচিত।
সিরিয়া
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে দেশটি খণ্ডিত ও বিধ্বস্ত।
ইরাক
সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ ও অস্থিতিশীলতার কারণে ভ্রমণের জন্য কঠোর নিরুৎসাহিত করা হয়।
সোমালিয়া
উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুতা দীর্ঘদিনের সমস্যা।
ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চল
জার্মানি
অতীতে চরমপন্থি নাৎসি পার্টির জন্মভূমি হওয়ার কারণে জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়।
যুক্তরাজ্য
সাম্রাজ্যবাদী ইতিহাসের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে অসন্তোষ রয়েছে।
রোমানিয়া
সরকারি দুর্নীতি, দুর্বল অবকাঠামো এবং রোমা সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যের কারণে সমালোচিত।
আর্জেন্টিনা
অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক দুর্নীতির কারণে সমালোচিত।
অস্ট্রেলিয়া
সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও তালিকায় স্থান পেয়েছে।
ইতালি
নাগরিকদের অমায়িক না হওয়া এবং বিদেশিদের স্বাগত না জানানোর কারণে।
ফিলিপাইন
সাবেক প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তের মাদকবিরোধী অভিযানে হাজার হাজার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কারণে সমালোচিত।
দক্ষিণ কোরিয়া
আশার কথা হলো, কে-পপ-এর উত্থানের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া এখন আগের চেয়ে কম ঘৃণার মুখোমুখি হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ, ভায়াবল আউটরিচ, ওয়াচ মোজো ও দ্য টপ টেন।



