ওমানের দুকম বন্দরে নোঙর করা ‘এমটি সেলেস্টিয়াল’ নামক তেলবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস শনিবার (১৩ জুন) গভীর রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে, মৃত নাবিকের মরদেহ দ্রুত ভারতে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নাবিকের পরিচয় ও মৃত্যুর বিবরণ
মৃত নাবিকের নাম নিশান্ত উইর্থানাথান (৩৫)। তিনি গত ১১ জুন মারা যান। তবে মৃত্যুর পর জাহাজে যথাযথ হিমাগার বা রেফ্রিজারেশনের ব্যবস্থা না থাকায় দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে তার মরদেহ জাহাজেই পড়ে ছিল বলে দাবি করেছে ‘ফরওয়ার্ড সিমেন্স ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’। ইউনিয়নটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে জানায়, তীব্র গরমে মরদেহ পচন থেকে রক্ষা করতে ক্রু সদস্যরা বোতলভর্তি ঠান্ডা পানি ব্যবহার করছেন, যা অত্যন্ত ভয়াবহ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
ভারতীয় নাবিকদের অবস্থা
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে প্রায় ৩ লাখেরও বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত। ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, এর মধ্যে ১৮ হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাবিক মধ্যপ্রাচ্যের জাহাজে কাজ করছেন।
ওমান উপকূলে মার্কিন হামলার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ওমান উপকূলে একটি মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় এই মৃত্যু ঘটল। আগের হামলায় ভারতে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো এর সমালোচনা করছে। চলতি সপ্তাহের শেষে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
ভারতের প্রতিবাদ
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন মাসেরও বেশি সময় পর এই হামলায় ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দ্বিতীয়বারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি জমা দিয়েছে, যা একটি বিরল পদক্ষেপ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেছে।
সূত্র: রয়টার্স।



