অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও হজযাত্রীদের উন্নত নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে সৌদি সরকার কঠিন শাস্তিসহ হজ বিধিমালা জারি করেছে। অনুমতিপত্র ব্যতীত হজ পালনের বিষয়ে সতর্ক করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদির এ হজ বিধিমালা মেনে চলার জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে অনুরোধ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছে
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দীক সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাফতরিক অনুমতিবিহীন হজের উদ্যোগের বিষয়ে কঠিন শাস্তির বিধান যুক্ত করেছে সৌদি সরকার। আসন্ন ১৪৪৭ হিজরি সালের হজকে সামনে রেখে সৌদির এ উদ্যোগে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আভাস মিলেছে।
শাস্তির বিধান
এ বিধান ভঙ্গকারী বিদেশি বাসিন্দাদেরকে দেশত্যাগ এবং ১০ বছর পর্যন্ত পুনরায় সৌদি আরবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈধ অনুমতি ছাড়া হজ পালনের উদ্যোগে আটক ব্যক্তিদেরকে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হতে পারে।
সহায়তা প্রদানকারীদের শাস্তি
এতে আরও বলা হয়, অবৈধ হজযাত্রী ছাড়াও যেসকল ব্যক্তি তাদের পরিবহন, আবাসন কিংবা অন্য কোনও সহায়তা দিবে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সৌদি সরকার। এরূপ ক্ষেত্রে এক লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। অপরাধীদের সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় এ শাস্তির পরিমাণ বাড়বে। এমনকি, এই কাজে ব্যবহৃত যানবাহন আইনানুগভাবে বাজেয়াপ্ত করার কথা বলেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সংশোধিত বিধির অধীনে দাফতরিকভাবে হজের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই কেবল মক্কা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানগুলোতে যেতে পারবে। এটি সকল হজযাত্রী ও সৌদি আরবে বসবাসরতদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জিলক্বদ মাসের এক তারিখ হতে ১৪ জিলহজ্জ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ের মধ্যে বৈধ হজের অনুমতি ছাড়া ভিজিটি ভিসাধারী ব্যক্তিরা মক্কায় প্রবেশ কিংবা অবস্থান করতে পারবে না।
সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুরোধ
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেদেশের নাগরিক, বিদেশি বাসিন্দা ও সকল ভিসাধারীদেরকে এই বিধান মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে।
বাংলাদেশের হজযাত্রী
উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। ইতোমধ্যে সৌদিতে পৌঁছেছেন ৪৭ হাজার ৮৫২ জন হজযাত্রী। আর সেখানে মারা গেছেন ১০ জন।



