যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যার শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গতকাল মঙ্গলবার টাম্পা ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সঙ্গে সমন্বয় করে মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মরদেহ হস্তান্তরের আগে মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট জামিল আহমেদ লিমনের পরিবারের সম্মতি নিয়েছে। মরদেহের পরবর্তী সব প্রক্রিয়া মুসলিম রীতিতে সম্পন্ন হবে।
মরদেহ দেশে ফেরত পাঠাতে সময় লাগবে
জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও দুই–এক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
ঘটনার বিবরণ
১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নিখোঁজ হন। পরদিন তাঁদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়, আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি কালো রঙের আবর্জনা ফেলার ব্যাগের মধ্যে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিখোঁজ অপর শিক্ষার্থীর সন্ধান
নিহত আরেক শিক্ষার্থী বৃষ্টির মৃতদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে যেখানে লিমনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, সেখান থেকে কিছুটা দূরে একটি জলাশয়ে ২৬ এপ্রিল একটি মৃতদেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়া গেছে। সেটি বৃষ্টির কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।



