স্পেনে রোমান স্বর্ণখনির সন্ধান, প্রযুক্তিগত দক্ষতার নিদর্শন
স্পেনে রোমান স্বর্ণখনির সন্ধান, প্রযুক্তিগত দক্ষতার নিদর্শন

স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি পাহাড়ের নিচে প্রায় দুই হাজার বছর আগের রোমান স্বর্ণখনির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। নতুন এই আবিষ্কার বলছে, আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই রোমান প্রকৌশলীরা কোটি টন মাটি সরিয়ে স্বর্ণ উত্তোলন করেছিলেন।

গবেষণার বিবরণ

গবেষকেরা জানিয়েছেন, স্পেন ও ফ্রান্স সীমান্তের কাছে সেরদানিয়া উপত্যকায় অবস্থিত গুইয়েতেরেস দ’আল এলাকায় পাওয়া নিদর্শনগুলো একটি পরিকল্পিত রোমান খনির অংশ। পলি স্তরের নিচে চাপা পড়ে থাকা একটি প্রাচীন জলাধারের সন্ধান মিলেছে, যা স্বর্ণ উত্তোলনে ব্যবহৃত জলচালিত খনন প্রযুক্তির সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভূদৃশ্যের রহস্য

প্রথম দেখায় এলাকাটি প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা পাহাড়ি ভূদৃশ্য মনে হলেও কাছ থেকে পর্যবেক্ষণে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে সরু পরিখা, কাটা ঢাল ও বড় খননক্ষেত্রের জালিকা শনাক্ত করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। প্রায় ৩০০ মিটার প্রশস্ত একটি বৃত্তাকার খনন এলাকা বিশেষভাবে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রযুক্তিগত দক্ষতা

ইউনিভার্সিটি অব আ কোরুনা ও ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনার গবেষকেরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এসব কাঠামো রোমান খনিশ্রমিকদের তৈরি। তাদের মতে, এটি ছোট আকারের অনুসন্ধান নয়; বরং সুপরিকল্পিত খনি প্রকল্প ছিল।

গভীর সুড়ঙ্গ খননের পরিবর্তে রোমানরা জলচালিত খনন প্রযুক্তি ব্যবহার করত। এ পদ্ধতিতে জলাধারে বিপুল পরিমাণ পানি জমা করে খালপথে স্বর্ণ সমৃদ্ধ পলির দিকে প্রবাহিত করা হতো। পানি ছাড়ার পর মাটি, নুড়ি ও শিলা ভেঙে নিচের দিকে নেমে যেত। পরে শ্রমিকেরা সেখান থেকে ক্ষুদ্র স্বর্ণকণা আলাদা করতেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাচীন জলাধার আবিষ্কার

২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পরিচালিত খননে গবেষকেরা একটি প্রাচীন জলাধার আবিষ্কার করেন। প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিটার চওড়া ও ১ দশমিক ৫ মিটার গভীর এ জলাধার বড় পাথরের ব্লক দিয়ে নির্মিত একটি বাঁধ দ্বারা শক্তিশালী করা হয়েছিল। খনি পরিত্যক্ত হওয়ার পর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জমা হওয়া পলি এর ইতিহাস সংরক্ষণ করে রাখে।

ডেটিং প্রক্রিয়া

জলাধারটি সর্বশেষ কবে ব্যবহৃত হয়েছিল, তা নির্ধারণে গবেষকেরা অপটিক্যালি স্টিমুলেটেড লুমিনেসেন্স (ওএসএল) পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এতে দেখা যায়, খনির জলচালিত ব্যবস্থা খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে পরিত্যক্ত হয়েছিল। ফলে এটি যে রোমান যুগের স্থাপনা, তা নিশ্চিত হয়েছে।

পরিমাণ ও প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, খননকাজে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার মাটি সরানো হয়েছিল। উপাদানের ঘনত্ব অনুযায়ী এর পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন টন। মধ্যাকর্ষণ, পানি ও মানবশ্রম ব্যবহার করেই এ বিশাল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব

গবেষকদের মতে, এ আবিষ্কার শুধু একটি হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণখনির প্রমাণ নয়; এটি রোমান সাম্রাজ্যের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারেরও চিত্র তুলে ধরে। সামরিক অভিযান, জনকল্যাণমূলক নির্মাণ, বাণিজ্য নেটওয়ার্ক ও প্রশাসন পরিচালনায় খনিশিল্প ছিল গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের উৎস। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জলাধার, খাল ও বৃহৎ জলচালিত ব্যবস্থা নির্মাণ রোমান প্রকৌশল দক্ষতার অসাধারণ উদাহরণ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া