ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এক শিশুর (৫) মরদেহ কংস নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্বজনেরা স্বাভাবিক মৃত্যু ভাবলেও দাফনের জন্য গোসল করাতে গিয়ে শরীরে ক্ষত দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আজ সোমবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার বিকেল ৫টার দিকে ধোবাউড়া উপজেলার নিজ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটির বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে স্থানীয় লোকজন কংস নদের বাঁকে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করে উদ্ধার করেন।
দাফনের প্রস্তুতি ও ক্ষত শনাক্তকরণ
স্বজনদের ভাষ্য, রাতেই শিশুটির মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করাতে নেওয়া হয়। তখন শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখা যায়। ওই অবস্থায় দাফনের প্রস্তুতি বন্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে আজ সকালে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
বাবার বক্তব্য
শিশুটির বাবা বলেন, ‘গতকাল আসরের নামাজের পর আমার মেয়ে চা–বিস্কুট খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যার পর লাশ পাওয়া যায়। আমার ছোট মেয়ের সঙ্গে কেউ এমন কাজ করতে পারে, তা কখনো ভাবতে পারিনি। আমার নিষ্পাপ মেয়েকে শেষ করে দিল।’
পুলিশের ধারণা
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ধারণা শিশুটিকে ধর্ষণ করে হত্যার পর নদীতে মরদেহ ফেলা হয়। কে এমন কাজ করেছে, তা উদ্ঘাটনে সিআইডি কাজ করছে। আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’



