ভারতের অরুণাচল প্রদেশের লোহিত জেলার তেজুর কাছে শিবাজি নগর এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও চারজন।
ধ্বংসস্তূপে আটকা পাঁচ পরিযায়ী শ্রমিক
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে পাঁচজন আটকা পড়েন। তাদের মধ্যে একজন নিজেই বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। আটকে পড়া সবাই ছিলেন পরিযায়ী শ্রমিক। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ও আহতরা স্থানীয় একটি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছিলেন।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু
লোহিত জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছেন। আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে নিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) ও অরুণাচল প্রদেশ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিরাপ জেলায় সড়ক ধস
অন্যদিকে, অরুণাচল প্রদেশের তিরাপ জেলায় টানা বৃষ্টির কারণে খোংসা-লাজু সড়কের প্রায় ১১০ মিটার অংশ ধসে গেছে। ফলে খোংসার পোস্ট অফিসের কাছে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি লাজু প্রশাসনিক এলাকার ১৬টি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান পথ। এর মধ্যে তুতনু ব্লকের গ্রাম, লাপনান, খেতি ও থিনসা এলাকার মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া এই পথ দিয়ে এপিএসটিএস বাস স্টেশন, আসাম রাইফেলস সদর দপ্তর, সিআরপিএফ সদর দপ্তর এবং খোংসার সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা হয়।
আবহাওয়া সতর্কতা ও আকস্মিক বন্যা
এর আগে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর জন্য অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। আবহাওয়া দপ্তর আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল। বুধবার লোহিত জেলায় নতুন করে ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে বেশ কিছু বাড়িঘর ও সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



