রোদ–বৃষ্টির খেলায় তাপে, ঘামে আর আর্দ্রতায় আমাদের ত্বক যখন উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে, তখন ত্বকের সজীবতা ফিরিয়ে আনতে দামি প্রসাধনী নয়, বরং দেশি ফলই হতে পারে সহজ আর সেরা সমাধান। নিয়মিত ফল খেলে শুধু স্বাস্থ্যেরই উন্নতি হয় না, বরং ত্বকের সজীবতা আর উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ভেতর থেকেও পুষ্টি জোগায় মৌসুমি ফল। ত্বকের কোলাজেন বৃদ্ধিতে এবং ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা ফেরাতে ফলগুলো জাদুর মতো কাজ করে।
ফল খাওয়ার সঠিক সময় ও পদ্ধতি
বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাজেদা আক্তার খানম জানান, সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে অথবা বিকেলের নাশতা হিসেবে ফল খাওয়া ভালো। এতে ফলের পুষ্টি উপাদানগুলো শরীর ও ত্বক ভালোভাবে শোষণ করতে পারে। প্রতিদিন ডায়েটে টক আর মিষ্টি স্বাদের দুই থেকে তিন ধরনের ফল রাখতে পারেন। জুস করে খাওয়ার চেয়ে আস্ত ফল খাওয়া বেশি উপকারী।
আম: ত্বক উজ্জ্বল ও কোমল করে
পাকা আমে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ ও বিটা ক্যারোটিন থাকে। এটি ত্বকের কোলাজেন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, যা বলিরেখা রোধে কাজ করে। আম শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ও কোমল করে। পাকা আম দিয়ে তৈরি প্যাক ব্যবহারেও ত্বক উজ্জ্বলতা পায়।
লিচু: তারুণ্য ধরে রাখে
লিচুতে আছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। এটি ত্বকের ক্ষতিকারক ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। লিচুতে থাকা কপার ও ম্যাগনেশিয়াম রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, ফলে ত্বক দেখায় আরও সজীব।
জাম: প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিনজেন্ট
জাম হলো প্রাকৃতিক ‘অ্যাস্ট্রিনজেন্ট’ (একধরনের রাসায়নিক পদার্থ, যা ত্বকের টিস্যু বা রোমকূপগুলোকে সাময়িকভাবে সংকুচিত ও টানটান করে)। এতে থাকা আয়রন রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে ব্রণ ও ফুসকুড়ি সমস্যা কমিয়ে আনে। জামের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়া গুণাগুণ শরীরের ভেতর থেকে টক্সিন বের করে দেয়, ফলে ত্বকের কালচে ছাপ বা দাগ দূর হয়।
কাঁঠাল: ত্বকের নমনীয়তা আনে
কাঁঠালে রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও আঁশ (ফাইবার)। এটি হজমপ্রক্রিয়াকে উন্নত করার পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে ত্বককে রাখে মসৃণ ও টানটান।
তরমুজ: গভীর হাইড্রেশন দেয়
তরমুজে ৯২ শতাংশ পানি ও লাইকোপেন থাকে, যা পানিশূন্যতা রোধ করে ত্বককে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ত্বককে আরাম দেয়, ভেতর থেকে সতেজ করে এবং শুষ্কতা দূর করে ত্বককে রাখে প্রশান্ত। তরমুজ প্রায় সব ধরনের ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে এনে শুষ্ক ত্বককে নরম করে।
বেল: জ্বালাপোড়া কমায়
বেল দেহে অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি হিসেবে কাজ করে। এতে আছে ফাইবার ও ভিটামিন ‘সি’, যা দেহের রক্ত পরিশোধন করে দেহের জ্বালাপোড়া কমায়। বেল রক্ত পরিষ্কার করে ব্রণ কমাতেও সাহায্য করে।
খেয়াল রাখার বিষয়
আম বা লিচুর মতো ফলে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালরি থাকে। এই ফলগুলো অতিরিক্ত খেলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, যা অনেক সময় ব্রণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া কিছু ফল থেকে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে, আবার বিশেষ কিছু রোগের কারণে বিশেষ কিছু ফল গ্রহণে চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞা থাকে। তাই এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে। ফল খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।



