প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা অপরিহার্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা অপরিহার্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেই দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।

ঢাবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে রোগ নির্ণয় আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান

বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের কিছু হাসপাতালে এক কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু ও হাম মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের ধৈর্য, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

দেশীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সরকারের সমর্থন

দেশীয় চিকিৎসা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রতি সরকারের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিমেডিসিন কর্মসূচির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ১২-লিড ইসিজি ও ইলেকট্রনিক স্টেথোস্কোপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত রয়েছে। সরকারের নতুন গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির সঙ্গে এসব প্রযুক্তির সমন্বয় করা গেলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সম্মেলনের আয়োজন ও অধিবেশন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বাইবিট লিমিটেড এবং রিলেভেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি যৌথভাবে সম্মেলনের আয়োজন করে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলনের সভাপতি অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী দেশে ১৯৭৮ সাল থেকে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রা তুলে ধরেন। সহসভাপতি অধ্যাপক তৌফিক হাসান বুয়েটে উদ্ভাবিত বিভিন্ন বায়োমেডিকেল প্রযুক্তি এবং এ খাতে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য দেন।

কারিগরি অধিবেশনে আলোচিত বিষয়

সম্মেলনের বিভিন্ন কারিগরি অধিবেশনে প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ, ওরাল রিহাইড্রেশন কর্মসূচি, শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশ, ড্রাই আই চিকিৎসা, ডায়াবেটিক ফুট আলসার প্রতিরোধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রিক্যাল বায়ো-ইম্পিডেন্স এবং স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিতে বৈষম্য কমাতে ‘গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ফর ম্যানকাইন্ড’ এবং ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইকুয়ালাইজিং অ্যাক্সেস টু হেলথকেয়ার টেকনোলজি’ নামে দুটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ক্যানসার চিকিৎসা, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, হাসপাতালজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ, কম খরচের চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে একাধিক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।