ব্ল্যাক মেহেদির পিপিডি: ত্বকের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি
উৎসব, বিয়ে কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে হাত মেহেদিতে রাঙানো অনেকেরই পছন্দ। তবে বাজারে সহজলভ্য টিউব বা প্যাকেটের মেহেদিতে মেশানো থাকে পিপিডি (প্যারা ফিনাইলিনডাই–অ্যামাইন) নামের একটি ক্ষতিকর উপাদান। বিশেষ করে ‘ব্ল্যাক মেহেদি’তে পিপিডির পরিমাণ বেশি থাকে, যা ত্বকের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
পিপিডিযুক্ত মেহেদির কারণে যেসব সমস্যা হতে পারে
পিপিডিযুক্ত মেহেদি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা থেকে দুই দিনের মধ্যে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:
- তীব্র চুলকানি ও জ্বালাপোড়া
- লালচে ফোলা বা র্যাশ
- ফোসকা বা পানিভর্তি দানা
- ত্বকের কালচে দাগ যা স্থায়ী হয়ে যেতে পারে
প্রতিকারের করণীয়
মেহেদি দেওয়ার পর যদি চুলকানি, জ্বালা বা ফোসকা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা নিলে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং স্থায়ী দাগের ঝুঁকি কমে।
- পরিষ্কার পানি ও মৃদু সাবান দিয়ে আক্রান্ত স্থান ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
- ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় বা ঠান্ডা কমপ্রেস দিলে জ্বালা ও ফোলাভাব কিছুটা কমে।
- খোঁচাখুঁচি বা চুলকানো এড়িয়ে চলুন। এতে সংক্রমণ ও দাগের ঝুঁকি বাড়ে।
- প্রয়োজনে অ্যান্টিহিস্টামিন বা অ্যান্টিঅ্যালার্জিক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া যেতে পারে।
- স্টেরয়েড ক্রিম বা মলম প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়, তবে তা চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত।
- যদি ফোসকা, ফোলা বা তীব্র ব্যথা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া জরুরি।
পরামর্শ ও সতর্কতা
- খুব দ্রুত কালো রং দেয় এমন ব্ল্যাক মেহেদি ব্যবহার করবেন না।
- সম্ভব হলে প্রাকৃতিক মেহেদি ব্যবহার করুন।
- প্রথমবার ব্যবহার করলে আগে হাতের ছোট অংশে প্যাচ টেস্ট করে নিন।
- শিশু ও সংবেদনশীল ত্বকে মেহেদি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
ডা. সিনথিয়া আলম, কনসালট্যান্ট, ডার্মাটোলজি বিভাগ, ইউনাইটেড হাসপাতাল এবং মেডিক্স, ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার, ঢাকা



