নাটোরে তড়কা রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ ১২ জন, তিনজন রাজশাহীতে ভর্তি
নাটোরে তড়কা আক্রান্ত গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ ১২ জন

নাটোরে তড়কা রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ ১২ জন, তিনজন রাজশাহীতে ভর্তি

নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলায় একটি তড়কা রোগে আক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস খাওয়ার পর অন্তত ১২ জন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোড়ার মতো ফোলা দেখা দিয়েছে, যা স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এঁদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা তিনজনকে বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সপ্তাহখানেক আগে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী গ্রামে আবদুল গফুর সরকারের একটি গরু হঠাৎ পেটফাঁপা ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি গরুটি জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করে নেন। গরুর মাংস কাটাকাটি, রান্না ও খাওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা কয়েক দিন পর অসুস্থ হয়ে পড়েন, এবং তাঁদের শরীরে ফোড়ার মতো ফোলা তৈরি হয়। এই লক্ষণগুলি দেখা দেওয়ার পর তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান, যেখানে প্রাথমিকভাবে তড়কা রোগের সন্দেহ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এস এম আলমাছ আলী জানান, চলনালী গ্রাম থেকে ছয়জন রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন, এবং তাঁদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, "পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রোগের প্রকৃতি নিশ্চিত হওয়া যাবে, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তড়কা রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস খাওয়া বা স্পর্শ করার কারণে তাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করার বিষয়টি আগে প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে জানানো হয়নি, যা একটি গুরুতর ভুল ছিল। তিনি বলেন, "প্রাথমিকভাবে এটি তড়কা রোগ বলে ধারণা করা হচ্ছে। জবাই করা গরুর কিছু মাংস সংরক্ষিত ছিল, যা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হলে গোপনে জবাই না করে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে জানানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"

টিকাদান কর্মসূচি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা

মো. রোকনুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, গত বছর উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার গরুকে তড়কা রোগের টিকা দেওয়া হয়েছিল, যা একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছিল। তবে এই ঘটনা জানার পর চলনালী গ্রামের গবাদিপশুকে দ্রুত টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রায় দুই হাজার গরুকে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।"

এই ঘটনা গবাদিপশু স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তড়কা রোগ একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা মানুষ ও প্রাণীর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাই অসুস্থ প্রাণী জবাই বা স্পর্শ করার আগে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা অত্যন্ত জরুরি।