রমজানে নাক, কান ও গলার রোগীদের চিকিৎসা: বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
পবিত্র রমজান মাসে অনেক রোগীই চিকিৎসা ও ওষুধ ব্যবহার নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। বিশেষ করে নাক, কান ও গলার সংক্রান্ত রোগের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। চিকিৎসকরা রোজাদার রোগীদের জন্য কিছু বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে তারা নিরাপদে ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন এবং রোজা বজায় রাখতে পারেন।
সাইনুসাইটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
সাইনুসাইটিস বা নাকের সাইনাসের প্রদাহে আক্রান্ত রোগীদের প্রায়ই নাকে স্প্রে বা ড্রপ ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। অনেক রোগী জানতে চান, রোজা রেখে দিনের বেলায় নাকে ওষুধ দেওয়া যাবে কি না। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, সাহরি ও ইফতারের পরে ড্রপ বা স্প্রে ব্যবহার করা উচিত। দিনের বেলায় নাকে ড্রপ বা স্প্রে না দেওয়াই ভালো, কারণ এটি রোজা ভঙ্গের কারণ হতে পারে।
কানের রোগে ওষুধ ব্যবহারের সতর্কতা
কান পাকা রোগ বা কানের অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রে অনেক সময় কানে ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। এই অবস্থায় সাহরি ও ইফতারের পরে কানে ওষুধ প্রয়োগ করা উত্তম। রোজা রেখে কানে ওষুধ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ কানের পর্দায় যদি ছিদ্র থাকে, তাহলে ওষুধ গলায় চলে যেতে পারে এবং রোজা নষ্ট হতে পারে।
টনসিল প্রদাহ ও গলার সংক্রমণের চিকিৎসা
টনসিল প্রদাহ বা গলার অন্যান্য সংক্রমণের জন্য প্রায়ই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয়। কিছু অ্যান্টিবায়োটিক দিনে চারবার, কিছু আট ঘণ্টা পরপর এবং অন্যান্য অ্যান্টিবায়োটিক দুইবার বা দিনে একবার খেতে হয়। রমজান মাসে চিকিৎসকরা সাধারণত দিনে এক বা দুইবার খেতে হয়, এমন ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দেন, যাতে রোগী ইফতার করে বা সাহরি খাওয়ার আগে বা পরে সহজেই ওষুধ সেবন করতে পারেন।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়সূচি ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
রমজানে কোনো রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে তা রাতে করানো যেতে পারে, যাতে দিনের বেলায় রোজা বজায় থাকে। পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারদের খাদ্যাভ্যাস একটি নিয়মিত রুটিনের মধ্যে চলে আসে, যা শরীরের জন্য উপকারী। এই সময়ে রোজাদাররা অনেক রোগ থেকে মুক্তি পান এবং তাদের শরীর ও মন সুস্থ থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন।
এই পরামর্শগুলো দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী, নাক কান গলা বিভাগ (ইএনটি), আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা। রমজানে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে আরও তথ্য জানতে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি।



