যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত গর্ভপাতের অন্যতম প্রধান ওষুধ মিফেপ্রিস্টোনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫ম সার্কিট কোর্ট অব আপিলস-এর তিন বিচারপতির প্যানেল শুক্রবার সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়ে বলেছে, এখন থেকে এই ওষুধ ডাকযোগে পাঠানো যাবে না, বরং শুধুমাত্র ক্লিনিকে গিয়ে সরাসরি সংগ্রহ করতে হবে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
আদালতের রায়ের বিস্তারিত
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ ওষুধের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এতদিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর সিদ্ধান্তের ওপর বিচারকরা আস্থা রেখে এসেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনায় এফডিএ কর্তৃপক্ষ মিফেপ্রিস্টোনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করে। ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ‘রো বনাম ওয়েড’ মামলার রায়ের পর গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পথ প্রশস্ত হয়। এরপর থেকে ডাকযোগে প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে গর্ভপাতের ওষুধ পাওয়া ছিল এই সেবা পাওয়ার প্রধান উপায়। এমনকি যেসব অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাত নিষিদ্ধ, সেখানেও এটি কার্যকর ছিল।
রায়ের যুক্তি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক কাইল ডানকান তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, ডাকযোগে ওষুধ সরবরাহের অনুমতি দিলে গর্ভপাত সংক্রান্ত রাজ্যের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। রায়ে বলা হয়, এফডিএ-এর কর্মকাণ্ড লুইজিয়ানার গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে এবং ‘গর্ভধারণের পর থেকে প্রতিটি অনাগত শিশু একটি মানব সত্ত্বা এবং আইনত ব্যক্তি’, এই নীতিকে ক্ষুণ্ণ করছে।
প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
মাইনফেপ্রিস্টোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জেনবায়োপ্রো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত এফডিএ-এর বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)-এর আইনজীবী জুলিয়া কেই বলেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাত ও গর্ভপাত-পরবর্তী সেবায় রোগীদের প্রবেশাধিকারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। যখন টেলিমেডিসিন সীমিত করা হয়, তখন গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে, ন্যাশনাল রাইট টু লাইফ কমিটি এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি নারীর স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ‘তদারকির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর’ পুনরুদ্ধার করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এই আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ড্যানকো ল্যাবরেটরিজ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানিটি এই আদেশ অন্তত এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে আদালতকে অনুরোধ জানিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে কোনো সমাধান না করলে তারা জরুরি আপিলের পথে হাঁটবে বলে জানিয়েছে।



