রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল আটটার দিকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই হাসপাতালে চলতি মৌসুমে এটিই প্রথম ডেঙ্গু রোগী।
বাবার অভিযোগ
শিশুটির বাবা জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তিনি গতকাল একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর মেয়ের ডেঙ্গু ধরা পড়েনি। তিনি দাবি করেন, ভুল চিকিৎসায় তাঁর মেয়ে মারা গেছে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, শরীরের সব রক্ত দিয়েও তিনি মেয়েকে বাঁচাতে চান।
শিশুটির পরিচয় ও চিকিৎসার বিবরণ
শিশুটির নাম তাইবা। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামে। হামের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর ২৯ মে রাতে তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। রোববার রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত হয়। গত বুধবার শিশুটি সুস্থ হয়ে সাধারণ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। আবার জ্বর ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার তাকে পুনরায় আইসিইউতে নেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল আটটায় তার মৃত্যু হয়। সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
পারিবারিক পটভূমি
জাহিদুল ইসলাম একজন দরিদ্র কৃষক। তিনি অন্যের জমিতে কাজ করেন। তিনি বলেন, 'কুষ্টিয়া থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেয়েকে রাজশাহী নিয়ে এসেছিলাম। রাজশাহীতে এসে ভুল চিকিৎসায় আমার একমাত্র সন্তান মারা গেল। গরম রক্ত লাগবে, তাই গতকাল রাতেও আমি রক্তের জন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছি। আমার ভাই এক ব্যাগ রক্ত দিয়েছে। তবু মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না।'
হাসপাতাল সূত্রের বক্তব্য
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ মাসের শুরুতে জ্বর, কাশি হলে দুই দিন পর শিশুটিকে স্থানীয় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন শরীরে লালচে দানার মতো ফুসকুড়ি বের হয়। হামের উপসর্গ নিয়ে ১২ দিন পর সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে যায়। হামের টিকা দেওয়া হয়। ২৭ মে আবার জ্বর-কাশি হলে স্থানীয় ডাক্তার দেখালেও উন্নতি না হওয়ায় স্থানীয় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা বা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, তাঁদের পরীক্ষায় শিশুটির ডেঙ্গু পজিটিভ হয়েছিল। তারপর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে নেগেটিভ হয়েছে। এটা হতেই পারে। অক্সিজেন লাগে না দেখে তিনি শিশুটিকে সাধারণ ওয়ার্ডে পাঠিয়েছিলেন। ওয়ার্ডে গিয়ে কেন খারাপ হয়ে গেল, বোঝা গেল না। সঙ্গে সঙ্গেই আবার আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও শিশুটিকে বাঁচানো গেল না।



