বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই মাসে ১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার আয়াত নামে সাত মাস বয়সী এক শিশু মারা গেছে। এর আগে ২২ মে আবদুর রহমান নামে পাঁচ মাস বয়সী শিশু ও ২০ মে আদদান নামে ছয় মাস বয়সী মারা যায়।
সিভিল সার্জনের তথ্য
রবিবার (২৪ মে) বিকালে বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বগুড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে গত দুই মাসে ১৮ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে নয় শিশু বগুড়ার, বাকি নয় জন অন্য জেলার।
হাসপাতালে ভর্তির পরিসংখ্যান
বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ১০ জন, ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল, টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ এবং রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে দুজন করে ভর্তি হয়েছে।
এ সময় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ১৯ জনকে। এর মধ্যে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ১৫ জন, ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুজন করে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে মোট ৬৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ৪৮ জন, ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নয় জন এবং টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে আট জন।
দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান
গত ২৯ মার্চ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৮৮ জন শিশু ভর্তি হয়। ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ৫২৩ জনকে। সন্দেহভাজন হামের রোগী ৫২৩ জন, ল্যাবে পাঠানো মোট সিরাম ৪৩৩ জন। ল্যাব রিপোর্টে হাম পজিটিভ হয়েছে ১৮ জন। এর মধ্যে ধুনটে তিন জন, সদর উপজেলায় তিন জন, শেরপুর উপজেলায় একজন, গাবতলী উপজেলায় দুজন, শাজাহানপুর উপজেলায় তিন জন, কাহালু উপজেলায় একজন, সোনাতলা উপজেলায় একজন, শিবগঞ্জে একজন এবং বগুড়া পৌরসভায় তিন জন।
মৃত্যুর কারণ
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, হামের সরাসরি সংক্রমণের চেয়ে এর পরবর্তী তীব্র শারীরিক জটিলতার কারণেই শিশুদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তালিকায় থাকা ১৮ জন শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে মূলত হামের পাশাপাশি ফুসফুসের তীব্র সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিসকে দায়ী করা হয়েছে। তালিকায় থাকা শেরপুরের আট মাস বয়সী শিশু রাশমিকার ক্ষেত্রে ল্যাব পরীক্ষায় হামের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায় এবং বাকিদের তীব্র উপসর্গ থাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে রাখা হয়েছিল।
এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহভাজন আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শেরপুরে একজন, গাবতলীতে দুজন, শাজাহানপুরে একজন, শিবগঞ্জে একজন, ধুনটে একজন ও সদরে দুজন। ল্যাব রিপোর্টে হামে নিশ্চিত মৃত্যু শেরপুরে একজন। এছাড়াও বগুড়ায় চিকিৎসাপ্রাপ্ত অন্যান্য জেলার মৃত্যু নয় জন। সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৮ জন।
রেডজোন ঘোষণা হয়নি
বগুড়ায় হামের সংক্রমণ তুলনামূলক কম হওয়ায় রেডজোন ঘোষণা করা হয়নি। সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলম জানান, ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে বগুড়া শহরের দুটি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে ৫৮৮ শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।



