প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স চুক্তি
ইউক্রেনের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি রাজনৈতিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই এ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় চালান ইউক্রেনে পৌঁছাবে।
প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের গুরুত্ব
প্যাট্রিয়ট হলো যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এটি পশ্চিমা দেশগুলোর তৈরি অল্প কিছু প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি, যা দিয়ে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব। সম্প্রতি ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধির পর এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে।
জেলেনস্কির বিবৃতি
তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ড্রোন কেনা কিংবা যৌথভাবে ড্রোন তৈরির বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা চলছে।
ন্যাটোর সম্মেলনকে ইউক্রেনের জন্য সফল উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এ সম্মেলন ইউক্রেনের জন্য সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নতুন একটি সামরিক সহায়তা প্যাকেজ পাব। এ ছাড়া কিছু আলাদা চুক্তিও হয়েছে।’ এ চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেন আধুনিক প্রযুক্তির ‘পিএসি-৩’ (প্যাট্রিয়ট অ্যাডভান্সড ক্যাপাবিলিটি-৩) ক্ষেপণাস্ত্র পেতে যাচ্ছে।
লাইসেন্স প্রক্রিয়া
ইউক্রেনের মাটিতেই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধান করেছি। এখন আমাদের কারিগরি দল, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও সরকারের কর্মকর্তাদের অবিলম্বে কাজ শুরু করতে হবে। লক্ষ্য হলো, যত দ্রুত সম্ভব লাইসেন্স পেয়ে ইউক্রেনেই এর উৎপাদন শুরু করা।’
প্রয়োজনীয়তা ও সময়সীমা
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারে, এমন আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত সরবরাহের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আসছেন জেলেনস্কি। সম্প্রতি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রুশ হামলা বৃদ্ধির পর এ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা আরও জরুরি হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য
বুধবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কানে একটা খবর এসেছে, আমরা আপনাদের প্যাট্রিয়ট তৈরির অধিকার দেব। আমরা আপনাদের দেখাব, এটি কীভাবে করতে হয়। আসলে এটি খুবই জটিল। তবে জটিলতাটি আপনারা দ্রুতই বুঝে যাবেন। এর ফলে আপনারা আর অভিযোগ করতে পারবেন না যে আমরা আপনাদের পর্যাপ্ত অস্ত্র দিচ্ছি না।’
কবে নাগাদ ইউক্রেনে এ অস্ত্রের উৎপাদন শুরু হতে পারে, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি ট্রাম্প। তিনি এ–ও বলেছেন, ওয়াশিংটন তাদের নিজেদের মজুত নিজেদের কাছেই রাখবে।
বিশেষজ্ঞের মতামত
জার্মানির ব্রেমেন ইউনিভার্সিটির গবেষক নিকোলে মিত্রোখিনের মতে, স্বল্পমেয়াদি দিক থেকে বিবেচনা করলে ইউক্রেন হয়তো এখনই কিছুই পাচ্ছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রযুক্তির নাগাল পাওয়ায় ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ ব্যালিস্টিক ও কাউন্টার-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অনেক গতিশীল ও উন্নত হবে।
উৎপাদনের পরিধি
ইউক্রেন মূলত পুরো প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নয়, বরং এর একটি অংশ বা ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করতে চায়। কারণ, এ ব্যবস্থার অন্যান্য অংশ যেমন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র, রাডার এবং এটি বহনকারী গাড়ি তৈরি করা বেশ জটিল। এ গাড়ির সুবিধা হলো, এর মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাটিকে দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যায়, যাতে শত্রু সহজে এর অবস্থান শনাক্ত বা হামলা করতে না পারে।



