কাতারের রাস লাফফান এলএনজি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল কাবি সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটির’ কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তিনি কোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বা হামলার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।
বিস্ফোরণের কারণ ও প্রভাব
আল কাবি বলেন, ‘এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল, কোনো নাশকতা বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড নয়। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটিতে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। মাত্র দুই দিন আগে এটি আবার চালু করা হয়।’ তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণে নিহত সবাই ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক। আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
রপ্তানিতে প্রভাব নেই
জ্বালানিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ঘটনার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না। কাতার এনার্জি নামের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি কেন্দ্রটি পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি বিস্ফোরণের সঠিক স্থান বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। আল কাবি, যিনি কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহীও, বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
আগের ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইরানের এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিল কাতার। গত মার্চ মাসে ইরানি হামলার কারণে কাতারের বিশাল গ্যাস কমপ্লেক্সটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কর্মীরা সেটি আবার চালুর কাজ শুরু করার সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে।
নিরাপত্তা ও তদন্ত
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো ধরনের গ্যাস দুর্ঘটনা বা লিকেজ হয়নি যা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং বিস্ফোরণের সঠিক কারণ নির্ধারণে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।



