বগুড়ায় হামের উপসর্গে রাইয়ান নামে দশ মাস বয়সি আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মনজুর-এ-মুর্শেদ। শনিবার রাতে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রাইয়ানের মৃত্যুর বিবরণ
ডা. মনজুর-এ-মুর্শেদ জানান, রাইয়ান বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বেতগাড়ী এলাকার আতিকুল ইসলামের ছেলে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১৭ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আগে থেকেই সে সেরিব্রাল পালসি, ব্রঙ্কোপনিউমোনিয়া, অ্যানিমিয়াসহ হার্ট ফেইলিউরসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিল। পরবর্তীতে জ্বর ও শরীরে র্যাশ দেখা দিলে তাকে হামের জন্য নির্ধারিত আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল না আসায় এটিকে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু বলা যাচ্ছে না।
পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে একই ওয়ার্ডে হুমায়রা নামে দশ মাস বয়সি আরও এক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যায়। শিশুটির পরিবার নমুনা সংগ্রহ করতে না দেওয়ায় তার মৃত্যু হামে হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া দুটি শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া ল্যাব পরীক্ষায় এক শিশুর হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হাসপাতালের পরিস্থিতি
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৫০ শয্যার বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। গত ২৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে ৩৮ জন চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত ১২৩ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র চারজনের শরীরে হামের অস্তিত্ব বা পজিটিভ ফলাফল পাওয়া গেছে।
পেডিয়াট্রিক আইসিইউ সংকট
ডা. মনজুর-এ-মুর্শেদ আরও জানান, শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে কোনো পেডিয়াট্রিক আইসিইউ বা এনআইসিইউ সুবিধা নেই। এ সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবলসহ দ্রুত একটি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ চালুর জন্য স্বাস্থ্য সচিবের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শজিমেক হাসপাতালে ছয়জন এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঁচজন ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ২২ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে জেলায় ৪৭ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে শজিমেক হাসপাতালে ৩৮ জন, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঁচজন এবং বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে চারজন ভর্তি রয়েছেন।



