গর্ভধারণের সঠিক সময় জানার ৫টি কার্যকরী পদ্ধতি, জানালেন ডা. তাসনিম জারা
গর্ভধারণের সঠিক সময় জানার ৫টি পদ্ধতি

গর্ভধারণের সঠিক সময় জানার ৫টি কার্যকরী পদ্ধতি, জানালেন ডা. তাসনিম জারা

সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর গর্ভধারণের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সময় বা ফারটাইল উইন্ডো চেনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের চিকিৎসক ও সহায় হেলথের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা সম্প্রতি একটি ভিডিওতে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। একাধিক পদ্ধতি সমন্বয় করে গর্ভধারণের সঠিক সময় জেনে নেওয়া যায়, যা দ্রুত সফলতার সম্ভাবনা বাড়ায়।

১. সাদা স্রাব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গর্ভধারণের সময় নির্ণয়

এই পদ্ধতি মাসিক নিয়মিত বা অনিয়মিত সব নারীর জন্যই প্রযোজ্য, বিশেষ করে অনিয়মিত মাসিকের ক্ষেত্রে এটি খুবই উপকারী। প্রতি মাসে সাদা স্রাবের চারটি অবস্থা দেখা যায়:

  • প্রথম অবস্থা: মাসিকের পর কোনো স্রাব না থাকা, গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় ০.৩%।
  • দ্বিতীয় অবস্থা: হালকা ভেজাভাব কিন্তু স্রাব দৃশ্যমান নয়, সম্ভাবনা ১.৩%।
  • তৃতীয় অবস্থা: ঘন ও আঠালো স্রাব, সম্ভাবনা ২.৫%।
  • চতুর্থ অবস্থা: পাতলা, পিচ্ছিল ও স্বচ্ছ স্রাব, সম্ভাবনা ২৮.৬% বা প্রায় ৩০%।

সাদা স্রাব দেখা শুরু হওয়ার দিন থেকে শেষ পাতলা স্রাবের দিন ও তার পরের তিন দিন গর্ভধারণের চেষ্টার জন্য আদর্শ সময়। তবে সহবাস, লুব্রিকেন্ট ব্যবহার, ওষুধ, বুকের দুধ পান করানো বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল এই পদ্ধতির কার্যকারিতা কমাতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২. শরীরের তাপমাত্রা মেপে সম্ভাবনাময় সময় বোঝা

দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো শরীরের বেসাল তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ। মাসিকের পর তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকে, আর ডিম্বাণু নিঃসরণের পর তা সামান্য বেড়ে যায় (০.২°C বা ০.৪°F)। নিয়ম হলো: টানা ছয় দিন কম তাপমাত্রার পর টানা তিন দিন বেশি তাপমাত্রা থাকলে, তৃতীয় দিন পর্যন্ত ফারটাইল উইন্ডো ধরা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সঠিকভাবে তাপমাত্রা মাপতে ঘুম থেকে ওঠার পরই, একই সময়ে, মুখে থার্মোমিটার রেখে মাপুন এবং ডিজিটাল থার্মোমিটার ব্যবহার করুন। মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব বা অসুস্থতা তাপমাত্রা পরিবর্তন করতে পারে, তাই চার্টে নোট রাখা জরুরি।

৩. স্ট্যান্ডার্ড ডে পদ্ধতিতে গর্ভধারণের উপায়

এই পদ্ধতি শুধুমাত্র তাদের জন্য প্রযোজ্য যাদের মাসিক চক্র ২৬ থেকে ৩২ দিনের মধ্যে থাকে। এতে মাসিক শুরু হওয়ার পর ৮ থেকে ১৯ দিন পর্যন্ত ফারটাইল উইন্ডো হিসেবে গণ্য করা হয়। মাসিক চক্র হিসাব করতে শুরু হওয়ার দিন থেকে পরের মাসিক শুরুর আগের দিন পর্যন্ত দিন গণনা করুন। অন্য পদ্ধতির সাথে সমন্বয় করে ব্যবহার করলে আরও কার্যকর হয়।

৪. ক্যালেন্ডারে হিসাব রেখে গর্ভধারণের কৌশল

এই পদ্ধতিতে অন্তত ছয় মাস ধরে মাসিক চক্রের দৈর্ঘ্য নোট করতে হবে। সবচেয়ে ছোট চক্র থেকে ১৮ বিয়োগ করলে ফারটাইল উইন্ডোর শুরু দিন বের হয়, আর সবচেয়ে বড় চক্র থেকে ১১ বিয়োগ করলে শেষ দিন পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, ২৬ দিনের ছোট চক্রে শুরু দিন ৮ এবং ৩৩ দিনের বড় চক্রে শেষ দিন ২২।

৫. অন্যান্য সহায়ক পদ্ধতি ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

ওভুলেশন টেস্ট কিট, মোবাইল অ্যাপ (যেমন Flo, Clue) বা শারীরিক লক্ষণ (স্তনে ব্যথা, পেট ফাঁপা) ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এগুলো ১০০% নির্ভরযোগ্য নয়। ডা. তাসনিম জারা উল্লেখ করেন যে কোনো একক পদ্ধতি নিশ্চিতভাবে ডিম্বাণু নিঃসরণের সময় বলতে পারে না, কিন্তু কয়েকটি পদ্ধতি সমন্বয় করলে সফলতার সম্ভাবনা বাড়ে।

প্রতি এক বা দুই দিন পর পর সহবাস করলে এক বছরে ৮০% এর বেশি দম্পতি সফল হন। তাই ৩-৪ মাস চেষ্টায় সফল না হলে চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এক বছর চেষ্টার পরও সফল না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, আর ৩৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে ছয় মাস পরই পরামর্শ নেওয়া উচিত।