হঠাৎ হাত-পা ফুলে যাওয়া কেন? জানুন কারণ ও প্রতিকার
হঠাৎ হাত-পা ফুলে যাওয়া: কারণ ও করণীয়

শরীরের হাত-পা হঠাৎ ফুলে যাওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। এটি কোনোভাবেই অবহেলা করার বিষয় নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'এডিমা' বলা হয়, যা শরীরের কোষ বা টিস্যুর মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় অতিরিক্ত তরল জমার কারণে ঘটে।

অনেকে একে সাধারণ ক্লান্তি বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফল মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু এটি একটি জটিল রোগের লক্ষণ হতে পারে। যদি ফোলা ভাব প্রায়ই দেখা যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তবে তা কিডনি, হার্ট বা লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতির পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

কিডনির সমস্যা

কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীর থেকে বাড়তি সোডিয়াম ও পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হতে পারে না। ফলে হাত-পা ও চোখের চারপাশ ফুলে যায়। কিডনি রক্ত থেকে অতিরিক্ত পানি, লবণ ও ক্ষতিকারক বর্জ্যপদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও পানি জমতে থাকে এবং এই বাড়তি তরল হাত ও পায়ে জমে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ছাড়া কিডনির সমস্যার কারণে শরীর থেকে জরুরি প্রোটিন বেরিয়ে গেলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের চারপাশ এবং মুখ মারাত্মকভাবে ফুলে উঠতে পারে। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা ফেনা হওয়া, খিদে কমে যাওয়া এবং বমি বমি ভাব।

হৃৎপিণ্ড বা হার্টের সমস্যা

হার্ট যদি শরীরজুড়ে সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারে, তবে রক্তনালিতে চাপ বেড়ে তরল পদার্থ জমা হয়ে বিশেষ করে পা ও গোড়ালি ফুলে যায়। হার্ট দুর্বল হয়ে পড়লে রক্ত চলাচলের গতি ধীর হয়ে যায়। রক্ত ঠিকমতো ফিরে আসতে না পারায় শিরাগুলোর ওপর চাপ বাড়ে এবং রক্ত থেকে তরল অংশ বের হয়ে পায়ের পাতা, গোড়ালি ও নিচের অংশে জমা হতে শুরু করে।

এ ক্ষেত্রে একটু হাঁটলেই হাঁপিয়ে ওঠা, শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং সবসময় বুক ধড়ফড় করার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লিভারের সমস্যা

লিভার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে (সিরোসিস) শরীরে অ্যালবুমিন নামক প্রোটিন তৈরি কমে যায়। ফলে রক্তনালি থেকে তরল উপাদান লিক হয়ে পেট ও হাত-পায়ে পানি জমতে শুরু করে। অতিরিক্ত মদপান, হেপাটাইটিস সংক্রমণ বা ফ্যাটি লিভারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতে একসময় তা শক্ত হয়ে যায়, যাকে 'লিভার সিরোসিস' বলে।

সুস্থ লিভার অ্যালবুমিন তৈরি করে, যা রক্তনালির ভেতরে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করে। লিভার নষ্ট হলে অ্যালবুমিন তৈরি কমে যায় এবং তরল রক্তনালি থেকে চুঁইয়ে চারপাশের টিস্যুতে চলে আসে। এর ফলে পায়ে ফোলা ভাব হয় এবং পেটের ভেতরে পানি জমে পেট ঢাকের মতো ফুলে ওঠে। জন্ডিস, চরম ক্লান্তি ও লিভারের অংশে ব্যথা হতে পারে।

পায়ের শিরার দুর্বলতা

পায়ের শিরাগুলোর ভেতরে ছোট ছোট একমুখী ভালভ থাকে, যা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে পায়ের রক্তকে ওপরের দিকে (হার্টে) ঠেলে পাঠায়। বয়স বাড়ার কারণে বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে এই ভালভগুলো দুর্বল বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তখন রক্ত ওপরের দিকে উঠতে না পেরে পায়েই জমতে শুরু করে।

এই জমে থাকা রক্তের চাপে তরল পদার্থ শিরার দেওয়াল ভেদ করে পায়ের মাংসে ছড়িয়ে পড়ে এবং পা ফুলিয়ে দেয়। পায়ে ভারি ভাব, পায়ের শিরাগুলো নীলচে ও আঁকাবাঁকা হয়ে ফুলে উঠতে পারে।

শরীরে ঘনঘন ফোলাভাব দেখা দিলে লবণ খাওয়া সাময়িকভাবে কমিয়ে দেওয়া উচিত। তবে নিজেকে পণ্ডিত ভেবে নিজে নিজে কোনো ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এমন সমস্যা নিয়মিত হলে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রক্ত পরীক্ষা, কিডনি ও লিভার ফাংশন টেস্ট এবং ইসিজি বা ইকোকার্ডিওগ্রাম করানো অত্যন্ত জরুরি।