বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে। এই সংখ্যা মোট মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, যা প্রতিরোধযোগ্য বলে মনে করে সংস্থাটি।
আত্মহত্যার হার ও কারণ
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে। বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে আত্মহত্যা, বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এটি মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং পারিবারিক কলহকে আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিরোধে করণীয়
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেছেন, 'আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। আমরা সবাই মিলে কাজ করে আত্মহত্যার হার কমাতে পারি।' সংস্থাটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি
বাংলাদেশেও আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব ও সামাজিক ট্যাবুর কারণে অনেকেই সাহায্য চান না। আত্মহত্যা প্রতিরোধে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
সচেতনতা জরুরি
ডব্লিউএইচও আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, আত্মহত্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোর জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করা জরুরি।



